পদ্মায় তীব্র স্রোত, ১৫০ যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে ফেরি আটকা
ফাইল ছবি
পদ্মা নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ও নাব্য সংকটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ পথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাঝ নদীতে ১৫০ জন যাত্রী ও ২৯টি যানবাহনসহ আটকে আছে একটি ফেরি। নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকে এ পথে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। উভয় ঘাটে আটকে পড়েছে প্রায় দেড় হাজার ছোটবড় যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
শিমুলিয়া ঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি পদ্মা নদী হয়ে সাগরের দিকে যাচ্ছে। এতে নদীতে প্রচণ্ড ঘূর্ণি স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতের সঙ্গে পলি মাটি এসে ফেরি চলার বিভিন্ন চ্যানেল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে গত ৮-১০ দিন ধরে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি ফেরি প্রায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গত তিনদিন ধরে এটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। দিনে দু-চারটি ফেরি চললেও রাতে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে শিমুলিয়া ঘাট থেকে তিনটি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে রওনা হয়। স্রোত ও নাব্য সংকটের জন্য চ্যানেলের মুখ দিয়ে ফেরি ঢুকতে পারছিল না। দুটি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে ফেরত আসলেও বিকেল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫০ জন যাত্রী ও ২৯টি যানবাহন নিয়ে শাহ মখদুম ফেরিটি নদীতে আটকে আছে।
হা-মীম পরিবহনের চালক শাহাবুদ্দিন বলেন, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে শুক্রবার ভোরে ঘাটে আসি। সকাল ১০টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছি। ফেরি চলাচল শুরু না হওয়ায় যাত্রীরা অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে পড়েন। দুপুরের দিকে তারা গাড়ি থেকে নেমে চলে গেছেন।

তিনি জানান, করোনায় এমনিতে যাত্রী কম। নৌ পথে এমন সমস্যা হলে তাদের যাত্রী আরও কমে যেতে পারে।
ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী সোহান আহম্মেদ জানান, তিনি রাজধানীর মতিঝিল থেকে যশোরে যাওয়ার জন্য সকাল ১০টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে আসেন। ফেরি বন্ধ থাকায় যানজটে আটকা পড়েছেন। কখন নদীর ওই পার পৌঁছাতে পারবেন জানেন না।
ট্রাকচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে তেল, আটা, সুজি নিয়ে তিনদিন আগে শিমুলিয়া ঘাটে এসেছেন। যাবেন গোপালগঞ্জ। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এখনও নদী পাড়ে অপেক্ষায় আছেন।

শিমুলিয়া ঘাট ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল বলেন, ঘাটে সাড়ে আট থেকে ৯ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে। শিবচর ঘাটেও প্রায় একই অবস্থা। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস, ছোট গাড়ি ও মালবাহী ট্রাক আছে। তবে ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। চারদিন ধরে ঘাটে আটকে আছে এমন অনেক ট্রাক আছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলের বয়াবাতি জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে। বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা ফেরির ইঞ্জিন বিকল করে দিচ্ছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় রাতে ফেরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শুক্রবার নদীতে একটি ফেরি আটকা পড়েছে। যাত্রীদের উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও উদ্ধারকারী জাহাজ কাজ করছে।
আরএআর/জেআইএম