রাজবাড়ীতে বন্যায় ৯ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট
চলমান বন্যায় রাজবাড়ীর ১৫৩৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নয় কোটি ২৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, পাট, তিল, ধানের বীজতলা ও কলাসহ বিভিন্ন ফসল। কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে কৃষি বিভাগ।
এদিকে, রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি। এখনও বন্যাকবলিত এলাকায় রয়েছে গো-খাদ্যের সঙ্কটসহ নানা সমস্যা। এখনও পানিবন্দি রয়েছেন চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। তবে এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চলের পানি কমতে থাকায় বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন বানভাসিরা।

অপরদিকে, জেলার ৪০০ ঘের ও পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৭২ লাখ টাকার মাছ ও মাছের পোনার ক্ষতি হয়েছে।
পাশাপাশি বন্যায় জেলার চার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১০৭টি গ্রামের ৯১ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা গোয়ালন্দ।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং অন্য দুটি গেজ স্টেশন পয়েন্টেও পদ্মার পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, বন্যায় জেলার ৪০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৭২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস বলেন, বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এখনও নিম্নাঞ্চলের ফসলি মাঠে পানি আছে। এবারের বন্যায় ১৫৩৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে প্রায় নয় কোটি ২৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, বন্যায় জেলার চার উপজেলার (রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ) ১৩ ইউনিয়নের ১০৭ গ্রামের ৯১ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা গোয়ালন্দ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তা, শিশু খাদ্য, শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যসহ নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
রুবেলুর রহমান/এএম/পিআর