ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিশুদের মারামারির জেরে কারাগারে মা, পলাতক বাবা

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২০

দুই শিশুর মারামারির জেরে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে নুরজাহান বেগম নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। মামলায় আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই নারীর স্বামী ইয়াছিন ছৈয়াল। আতঙ্কে আর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের চার শিশু সন্তানের। ঘটনাটি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া এলাকার।

নড়িয়া থানা ও স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, নড়িয়ার ভূমখাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেগমের স্বামী ইয়াছিন ছৈয়াল চট্টগ্রামে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। চার সন্তান নিয়ে নুরজাহান গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ৩ আগস্ট নুরজাহানের ছেলে মজনু (৯) ও মোজাম্মেলের (৮) সঙ্গে প্রতিবেশী সালাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আহাদের (১৪) ঝগড়া হয়। এ সময় হাতাহাতি করলে আহাদ মাথায় আঘাত পায়। ওই ঘটনার জের ধরে ওই দিন আহাদের বাবা আব্দুস সালাম লোকজন নিয়ে মজনু, মোজাম্মেল, তার মা নুরজাহান, দুই বোন বিথী ও সাথিকে মারধর করেন।

এ ঘটনা উল্ল্যেখ করে ওই দিন রাতেই নুরজাহান বেগম নড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগটি নথিভুক্ত করেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিষয়টি মিমাংসার জন্য নুরজাহানকে চাপ দিতে থাকেন। নুরজাহান মিমাংসায় রাজি না হলে ২১ আগস্ট সালামের স্ত্রী শিউলি বেগম নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় নুরজাহান ও তার স্বামী ইয়াছিন ছৈয়াল আব্দুল আহাদকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। ওই রাতেই নড়িয়া থানার পুলিশ নুরজাহানকে গ্রেফতার করে। পরের দিন তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নুরজাহানের চার শিশু সন্তান আতঙ্কে ঘরে বসে থাকে। বাবা-মায়ের জন্য কান্না করে। ভয়ে তারা রাতে না ঘুমিয়ে জেগে থাকে।

ওই ঝগড়ার ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া আব্দুল আহাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, ঈদের দুই দিন পরে বাড়ির পাশের বাজারে মজনু ও মোজাম্মেলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মোজাম্মেলের হাতে থাকা ফিটকিরির প্যাকেট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তার মাথা কেটে রক্ত বের হয়। ওই ঘটনার সময় মজনুর বাবা-মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

এ সময় আব্দুল আহাদের বাবা আব্দুস সালাম পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে আব্দুস সালাম বলেন, ‘ওরা এলাকার মধ্যে খুব খারাপ। আর ওই শিশুদের মা তাদের প্রশ্রয় দেয়। এ কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আর আমি তাদের মারধর করিনি, ঘটনাটি জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে একটু ধস্তাধস্তি হয়েছে।’

এদিকে নুরজাহানের অভিযোগ নথিভুক্ত না করে তদন্ত করছিলেন উপপরিদর্শক আবিদ হাসান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নুরজাহানের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছিল। এমন অবস্থায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলেন। এ কারণে তা আর নথিভুক্ত করা হয়নি। কিন্তু ওই ঘটনার বিপরীতে কেন মামলা হলো, আর কেন নুরজাহানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলো তা বুঝতে পারছি না।

নুরজাহানের স্বামী ইয়াছিন ছৈয়াল বলেন, আমি চট্টগ্রামে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করি। আয় কম তাই স্ত্রী-সন্তানদের গ্রামে রাখতে হয়েছে। বাচ্চারা ঝগড়া করেছে। আমরা বড়রাই মিটিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু সালাম প্রভাবশালী ও বিত্তশালী। সে আমার স্ত্রী সন্তানকে মারধর করল, আবার হয়রানিমুলক মামলা দিয়ে কারাগারেও পাঠাল। আমি এলাকায় ছিলাম না অথচ আমাকেও আসামি করা হয়েছে।

নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নুরজাহান যে অভিযোগ করেছিলেন তাতে মারধরের কথা উল্লেখ ছিল। আর শিউলী বেগমের করা মামলায় তার ছেলের মাথায় কোপানোর অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাদের মামলাটি নথিভুক্ত করে নুরজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন ওই ঘটনার সঙ্গে নুরজাহান জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম