‘জেএসএস ছেড়ে যুবলীগে যোগ দেয়ায় গুলি করে হত্যা’
বান্দরবানে যুবলীগ নেতা মংসিউ মার্মাকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
বান্দরবানে যুবলীগ নেতা মংসিউ মার্মাকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা যুবলীগ। বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বান্দরবান বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কেলুমং মারমার সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. ইসলাম বেবী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাদেক হোসেন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নেতাকর্মী জড়িত বলে সমাবেশে দাবি করা হয়।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী বলেন, পাহাড়ে হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিন। অন্যথায় আওয়ামী লীগ মাঠ নামলে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। তবে আমরা পাহাড়ে শান্তি চাই। যুবলীগ নেতা হত্যার বিচার চাই।
বান্দরবান সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা জড়িত, বিষয়টি তদন্ত করে জানতে পেরেছি আমরা। যুবলীগ নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবান জেলা সদরের বাগমারায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবলীগ নেতা মংচিংউ (৩৮) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে চলে যায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা।
মংচিংউ রাজবিলা ইউনিয়নের বাগমারার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিংক্যউ কারবারি পাড়ার মৃত মংহ্লাচিংয়ের ছেলে। তিনি জামছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাসায় মংচিংউ স্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অপরিচিত দুজন সন্ত্রাসী তাকে নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। মংচিংউ ও তার স্ত্রী একসঙ্গে তাদের সঙ্গে রাস্তায় চলে আসেন। পরে সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রীকে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ডেকে দিতে বলেন। মংচিংউর স্ত্রী ওই পরিচিত ব্যক্তিকে ডাকার জন্য একটু সামনে গেলেই মংচিংউকে গুলি করে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মংসিউ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি জেএসএস ছেড়ে যুবলীগে যোগ দেন মংসিউ। যুবলীগে যোগ দেয়ায় জেএসএস সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধিদের ধারণা।
এর আগে গত ৭ জুলাই রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারপাড়ায় জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) তিন শীর্ষ নেতাসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জনসংহতি সমিতির মূল দলকে দায়ী করা হয়।
সৈকত দাশ/এএম/এমকেএইচ