ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিশু শ্যালককে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দিল দুলাভাই, আরেকজনকে হত্যাচেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি | বরগুনা | প্রকাশিত: ০২:৩২ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০২০

বরগুনায় আবদুল্লাহ নামের ছয় বছরের এক শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে মেরে বিষখালী নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মোসলেম (২২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্পর্কে আবদুল্লাহ তার শ্যালক। এছাড়াও দেড় বছরের শ্যালক আফসানকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা এলাকায় ফারুক মোল্লার ইটভাটা সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ঘাতক মোসলেমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ঘটনার পর আটক অবস্থায় শ্যালক আবদুল্লাহকে পানিতে চুবিয়ে মেরে বিষখালী নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্থানীয় বাসিন্দাসহ সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন মোসলেম। তবে রাত ১২টার দিকে এ সংবাদ লেখার সময় শিশু আবদুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত মোসলেম সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

jagonews24

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহিম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ডালভাঙা এলাকার নদীসংলগ্ন একটি দীঘিতে শিশু আফসানকে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করছিল মোসলেম। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা মোসলেমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

নিহত শিশু আবদুল্লাহর বাবা ছগীর বলেন, তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এরপর আবদুল্লাহ (৬) ও আফসানকে (১৮ মাস) আমার মেয়েরা লালনপালন করত। সপ্তাহখানেক আগে জামাতা মোসলেম বরগুনায় আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ডালভাঙা এলাকায় নানা-শ্বশুড়বাড়ি বেড়াতে এসে তার দুই ছেলে আবদুল্লাহ ও আফসানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় মোসলেম। সন্ধ্যার পর তিনি জানতে পারেন তার বড় ছেলে আবদুল্লাহকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার পর মরদেহ বিষখালী নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে মোসলেম। এছাড়াও ছোট ছেলে আফসানকে একই প্রক্রিয়ায় হত্যাচেষ্টার সময় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে।

তিনি আরও বলেন, মোসলেম আমার বড় মেয়ে ছবির জামাতা। ঢাকায় থাকা অবস্থায় আমার মেয়ে ও নাতিকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না মোসলেম। তাই মাস খানেক আগে মেয়ে ছবি তার সন্তান নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এরপর মোসলেমও সপ্তাহখানেক আগে এসে তার বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা মোসলেমের কাছে আমার নাতিকে দিতে রাজি হইনি। এর জেরে আমার ছেলেদের নিয়ে হত্যা করেছে মোসলেম।

jagonews24

ঘাতক মোসলেম শিশু-শ্যালক আবদুল্লাহকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে এসেছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রী ও শ্বশুর নিয়ে যেতে দেয়নি। এ কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে আমি শ্যালক আবদুল্লাহ ও আফসানকে হত্যার পরিকল্পনা করে বেড়াতে নিয়ে যাই। এরপর প্রথমে আবদুল্লাহকে দীঘিতে ফেলে ডুবিয়ে হত্যা করে লাশ বিষখালী নদীতে ভাসিয়ে দেই। এরপর আফসানকেও একই প্রক্রিয়ায় হত্যার চেষ্টা করি।’

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘাতক মোসলেমকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের কাছেও হত্যার বিবরণ দেয় মোসলেম। স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে মোসলেমকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, নিহত শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘাতক মোসলেমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/বিএ