নির্যাতিত তরুণকে উদ্ধার করে বিপদে সাবেক সেনা সদস্য
বরগুনার আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তরুণ সমাজকর্মী ও সাবেক সেনা সদস্য ইব্রাহিম খলিল সজল মোল্লা সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন শয্যাশায়ী। সজল আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আ. রশীদ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার নিরীহ এক মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ার জের ধরে তাকে নির্জন এক মাছের ঘেরে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে রোড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার পাশাপাশি রড পুড়িয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন অংশে ছ্যাকাও দেয় সন্ত্রাসীরা। এসময় বিবস্ত্র করে তার ছবিও তোলে তারা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সজল মোল্লার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় সোমবারিয়া বাজারে শহিদুল মাল নামের ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালককে নির্মম নির্যাতন করছিল সন্ত্রাসীরা। কেউ যখন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি তখন নির্যাতনের শিকার ওই তরুণের চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে সজল মোল্লা তাকে উদ্ধারের জন্য সেখানে যান। সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে নিজেও নির্যাতনের শিকার হন সজল মোল্লা। এরপরও ওই তরুণকে উদ্ধার করেন তিনি।
এ ঘটনার জের ধরে গত ২ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফেরার পথে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঝালেরতবক এলাকায় সজল মোল্লার মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে পিস্তলের বাট দিয়ে চোখে আঘাত করে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এরপর নির্জন একটি মাছের ঘেরে আটকে রেখে তাকে রাতভর নির্যাতন চালায় তারা।
এসময় দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সন্ত্রাসীরা। অন্যথায় তাকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেবে বলে জানায় তারা। নির্যাতনের পর অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখে সন্ত্রাসীরা।
এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার সজল মোল্লা জানান, নির্যাতনের পর তিনি তার ফুফাতো ভাই সেলিম তালুকদারের সহযোগিতায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে কিছুদিন চিকিৎসা নেন। এরপর আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা চালাতে না পেরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন। এখনও তিনি শারীরিকভাবে চরম অসুস্থতা ও যন্ত্রণা নিয়ে দিন পার করছেন। কিভাবে তার পরবর্তী চিকিৎসা হবে তা তিনি জানেন না।
সজল মোল্লা আরও বলেন, একসময় বাংলাদেশ সেনাবাহীনির সদস্য ছিলেন তিনি। পরে বাবা-মায়ের অসুস্থতাসহ পারিবারিক সমস্যার কারণে চাকরি ছেড়ে চলে আসেন। এরপর থেকে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হয়ে ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে একজন সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন তিনি। তার বাবা মরহুম আ. রশীদ মোল্লা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় ২৬ বছর ধরে তার বাবা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। একসময় নির্বাচিত ইউপি সদস্যও ছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় আমতলী থানায় আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ ওরফে নয়া তালুকদার (৩০), মাসুম তালুকদার (২২) ও আবুল বাসার আকনসহ (৩৫) নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও সাত-আট জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা (মামলা নং-১/১৬৪) দায়ের করেন ভুক্তভোগী সজল মোল্লা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আমতলী থানা পুলিশের এসআই মো. শাহ আবুল জানান, এ ঘটনায় মাসুম তালুকদার ও মাসুদরানা নামের দুইজনকে গ্রেফতার ও ভুক্তভোগী সজল মোল্লার ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারেও সচেষ্ট রয়েছে আমতলী থানার পুলিশ।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এমএএস/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আগুন
- ২ টানা পাঁচদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে
- ৩ বিএনপির ৫ নেতার ‘সুপার ফাইভ বাহিনীর’ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ
- ৪ নারী কর্মীদের ধাওয়া, প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতার ওপর হামলা
- ৫ বিএনপি প্রার্থীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে টাকা দাবি, জিডি