ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভালো সড়ক ভেঙে পুনরায় নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০২:২৮ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০২০

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে বিভিন্ন সড়ক। ওসব সড়ক সংস্কার না করে চলতি অর্থবছরে নগর অবকাঠাaমো উন্নয়ন প্রকল্পের-২ আওতায় গোসাইরহাট বাজারের মহেশকান্দি ব্রিজ থেকে বাদামতলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৪৫৭ মিটার ভালো সড়ককে খানাখন্দ দেখিয়ে সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এতে ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৮ টাকার দরপত্রের কাজ পান শরীয়তপুর ডামুড্যার রশিদ বিসনেজ সেন্টার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সীমানা জটিলতা নিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর নির্বাচন না হওয়ায় লাখ লাখ টাকা হরিলুটের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে গোসাইরহাট পৌরসভার সচিব ও প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।

গোসাইরহাট পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোসাইরহাট পৌরসভা গঠন হয় ২০১১ সালে। কিন্তু ইদিলপুর ইউনিয়নের নয় মৌজা পৌরসভায় যুক্ত করায় আদালতে মামলা হয়। যা আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়।

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় নয় বছর ধরে বন্ধ গোসাইরহাট পৌরসভা ও ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন আটকে থাকায় ইদিলপুর ইউনিয়ন ও গোসাইরহাট পৌরসভার বাসিন্দারা জনপ্রতিনিধি বেছে নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোয়াতে হয় তাদের।

Shariatpur-Gosirhat-Powrosova-2

২০১৯-২০ অর্থবছরে গোসাইরহাট পৌরসভায় আট কোটি টাকার ১১টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এ সুযোগে গোসাইরহাট পৌরসভার সচিব ও প্রকৌশলীরা পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের কাজ করছে নিম্নমানের। সড়ক সংস্কারের কয়েক মাস না যেতেই উঠে যাচ্ছে পিচ ও খোয়া। এতে লাভবান হচ্ছেন গোসাইরহাট পৌরসভার সচিব ও প্রকৌশলী এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা।

এদিকে, গোসাইরহাট বাজারের মহেশকান্দি ব্রিজ থেকে বাদামতলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৪৫৭ মিটার ভালো সড়ককে নিচু ও খানাখন্দ দেখিয়ে পুনরায় নির্মাণের জন্য ১৯ জুলাই দরপত্র আহ্বান করে পৌরসভা।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ৮ অক্টোবর কার্যাদেশ দেয়া হয়। এতে ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৮ টাকার দরপত্রের কাজ পান শরীয়তপুর ডামুড্যার রশিদ বিসনেজ সেন্টার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মহেশকান্দি ব্রিজ থেকে বাদামতলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গোসাইরহাট বাজারের সড়কটি আরসিসি করা হয়েছিল। সড়কটি খুবই ভালো ছিল। যা আরও ৫-১০ বছর যাতায়াতের উপযোগী ছিল। কিন্তু ভালো সড়কটি ভেঙে নতুন করে করছে গোসাইরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। যা হরিলুট ছাড়া কিছুই নয়।

স্থানীয়রা জানান, গোসাইরহাট ডাকবাংলা থেকে ইদিলপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে গোসাইরহাট থানা পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। সড়কটিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। কিন্তু সেই সড়ক পুনরায় নির্মাণ না করে বাজারের ভালো সড়কটি পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এটা হাস্যকর।

Shariatpur-Gosirhat-Powrosova-2

স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল জলিল দেওয়ান, অটোচালক রাজিব হোসেন, বাজার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির শিকদারসহ অনেকেই জানান, সড়কটি অনেক ভালো। সড়কটি দিয়ে আরও ৫-৭ বছর যাতায়াত করা যেত। সড়কটি ভাঙার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভাঙার কারণে আমাদের সাধারণ মানুষের অনেক সমস্যা হচ্ছে। হাটবাজারে লোকজন ও যেকোনো ধরনের গাড়ি যেতে পারছে না। বাজারের ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে। ভালো সড়কটি কেন ভাঙা হলো আমাদের জানা নেই।

গোসাইরহাট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সড়কটিতে সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। বিভিন্ন স্থান ভেঙে খানাখন্দ হয়ে গেছে। তাই সড়কটি পুনরায় সংস্কার করা হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রশিদ বিসনেজ সেন্টারের মালিক আব্দুর রশিদ গোলোন্দাজ বলেন, সরকার টেন্ডার আহ্বান করেছে। তাই আমরা সড়কের কাজ পেয়েছি। কাজও চলমান। ভালো সড়ক ভাঙার কি অধিকার কারও আছে?

তিনদিন গিয়েও পৌরসভায় পাওয়া যায়নি পৌরসভার সচিব আব্দুল আলীম মোল্ল্যাকে। তবে তিনি মুঠোফোনে জানান, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমতো। সেজন্য পৌরসভার অনুমতিক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, গোসাইরহাট বাজারের রাস্তাটা ছিল অনেক নিচু। দোকানগুলো উঁচু। তাই বর্ষার সময় বৃষ্টিতে সড়কে কাদাপানি জমে যায়। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামতও করা হচ্ছে। প্রকল্পটা আগের, তাই আমরা বাদ দিতে পারি না। এজন্য সড়কটি করা হচ্ছে।

মো. ছগির হোসেন/এএম/পিআর