EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

করোনায় ভাটা পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইটের ব্যবসা

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইটভাটা ব্যবসা। নতুন মৌসুম শুরু হলেও চাহিদা কম থাকায় ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ ইটভাটায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে উৎপাদিত কয়েক কোটি টাকার ইট এখনো পড়ে আছে। মহামারির কারণে এখন পর্যন্ত এ ব্যবসায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শতাধিক ইটভাটা সচল রয়েছে। মূলত অক্টোবর থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইটের ব্যবসা চাঙা থাকে। বাকি সময় বর্ষা মৌসুমের কারণে ইটভাটা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে পুরো মৌসুমেই ব্যবসা করতে পারেননি মালিকরা।

মূলত ইটভাটার সর্দারদের মাধ্যমে পুরো মৌসুমের জন্য চুক্তি করে মালিকদের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নেন শ্রমিকরা। আর চুক্তি অনুযায়ী টাকা নেয়ার পরও করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন। শ্রমিকরা কাজে না আসায় কাঙিক্ষত উৎপাদনও হয়নি। এছাড়া সরকারি নির্দেশনায় সকল ইটভাটাও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ইটভাটা বন্ধ রাখলেও জমির ভাড়াসহ অন্যান্য সকল ব্যয় ঠিকই মেটাতে হয়েছে মালিকদের। ব্যাংক ও ব্যক্তি ঋণের সুদও শোধ করতে হয়েছে তাদেরকে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর গত অক্টোবর মাসের শেষদিক থেকে শ্রমিকরা আবারো কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু কোনো ইটভাটাতেই শতভাগ শ্রমিক আসছেন না। আর এখন নতুন মৌসুম শুরু হলেও চাহিদা না থাকায় উৎপাদন হচ্ছে কম। করোনাভাইরাসের কারণে সবধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

Brick-1

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মেসার্স টি অ্যান্ড সি ব্রিক্সের পরিচালক মো. বাহার উদ্দিন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পরপরই শ্রমিকরা বাড়িতে চলে যান। গত অক্টোবর মাস থেকে কিছু শ্রমিক আবার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ইটের বাজারে মন্দাভাব কাটছে না।’

শশই ব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী আবুল ফয়েজ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমার ইটভাটায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শ্রমিকরা টাকা নিয়েও কাজ করেননি। এখন নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে শ্রমিকরাও কাজে ফিরছেন। কিন্তু ইটের চাহিদা না থাকায় উৎপাদন পুরোদমে শুরু করা যাচ্ছে না।’

নবীনগর উপজেলার সুমন ব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী নাছির মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামেও ইট বিক্রি করতে পারছি না। এখনো প্রায় ২০ লাখ টাকার ইট পড়ে আছে। আদৌ এই ইটগুলো বিক্রি করতে পারব কি-না জানি না। সবমিলিয়ে আমার প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সবধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ইটের ব্যবসায় মন্দাভাব কাটছে না। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি যেটা হয়েছে, সেটা পুষিয়ে নেয়ার কোনো উপায় নেই। যদি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে হয়তো ব্যবসা আবার ভালো হবে।’

আজিজুল সঞ্চয়/এসআর/পিআর