করোনাকালেও জমজমাট বাইশমৌজা পশুর হাট
করোনার সময়েও জমজমাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বৃহৎ পশুর হাট বাইশমৌজা। উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নে প্রতি হাটে প্রায় ১০ কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয় বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বীরগাঁও ইউনিয়নের আমতলি ও শিবপুরের প্রায় চার বিঘা জমিতে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বসে হাটটি। কুমিল্লা, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, রাজশাহী, খুলনা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন হাটে। করোনাকালেও প্রতি হাটবারে লাখো মানুষের সমাগম হয়।
প্রতি বছর বাইশমৌজা পশুর হাটটি ইজারা দিয়ে থাকে নবীনগর উপজেলা প্রশাসন। এ বছর হাটটি ১৮ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন।
ইজারাদার আফজাল হোসেন বলেন, হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। পশু অনুযায়ী ১০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হয়।
‘ছাগল-খাসির ক্ষেত্রে অনেকেই হাসিল দেন না, আর দিলেও ৫০ টাকার বেশি না। তবে কাউকেই হাসিলের জন্য জোরাজুরি করা হয় না। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খুশি থাকে।’
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গরু ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ১০ বছর ধরে বাইশমৌজা পশুর হাটে গরু নিয়ে আসি। অন্য হাটের তুলনায় এখানে অনেক জমজমাট এবং বেচাকেনা বেশি হয়। প্রতি হাটবারে ৫-৭ লাখ টাকার গরু বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।
চাঁদপুরের মনির হোসেন নামের এক ক্রেতা জানান, এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গরু পাওয়া যায়। এছাড়া অন্যান্য হাটের তুলনায় দামও সস্তা। সে কারণে এ হাট থেকে গরু কিনে লাভ বেশি করা যায়।
বাইশমৌজা যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, মূলত হাসিল কম হওয়ায় বাইশমৌজা পশুর হাট সবসময় জমজমাট থাকে। এছাড়া হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি নেই। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি স্থানীয় যুবকরা তদারকি করে থাকে। বর্তমানে নদীপথে হাটে আসতে হয়, তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পশুর হাটটি হয়ে উঠবে দেশের সবচেয়ে বড় এবং জমজমাট ।
এএইচ/পিআর