ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘জয়বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত শায়েস্তাগঞ্জ

শায়েস্তাগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২০

৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিনেই শত্রুমুক্ত হয়েছিল হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ শহর। আকাশে উড়েছিল বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা। চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছিল ‘জয়বাংলা’ স্লোগান।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরুর পর পরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এখানে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ।

বৃহত্তর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শায়েস্তাগঞ্জ খোয়াই ব্রিজটি উড়িয়ে দেয় মুক্তিবাহিনী। স্থানে স্থানে রেললাইনেও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই মধ্যে ২৯ এপ্রিল হঠাৎ করেই পাক-হানাদার বাহিনী শায়েস্তাগঞ্জ শহরে এসে উপস্থিত হয় বলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান।

এখানে অবস্থান নিয়ে হানাদার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর চালাতে থাকে নির্মম অত্যাচার। যোগাযোগের জন্য খোয়াই নদীতে ফেরি চালু করে। স্থাপন করে ক্যাম্প। মেরামত করে ব্রিজ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে বিধ্বস্ত খোয়াই ব্রিজের ওপর থেকে কখনো গুলি করে আবার কখনো হাত-পা বেঁধে জীবন্ত অবস্থায়ই নদীতে ফেলে দিত হায়েনার দল।

সারাদেশের সঙ্গে সড়ক ও রেল এবং নৌপথের যোগাযোগের সুবিধার্থে হানাদার বাহিনী এখানে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানের অস্ত্র নিয়ে চোরাগুপ্তা হামলা চালালেও এদের সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না।

অন্যদিকে এখান থেকে ভারত সীমান্ত কাছে থাকায় পাকিস্তানিরা সবসময় ভারী অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত থাকতো। মিত্র বাহিনীর ভয়ে গুপ্তচর সন্দেহে তারা নির্বিচারে অনেক সাধারণ মানুষকেও হত্যা করে বলেও জানা যায়।

অবশেষে আসে সেই শুভক্ষণ। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর সিলেটের সর্বত্র যুদ্ধে হেরে হানাদার বাহিনী সড়ক ও রেলপথে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালাতে থাকে। একই সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ থেকেও ছিটকে পড়ে কুখ্যাত হায়েনার দল।

দীর্ঘ ৯ মাস পর এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিজয় পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শায়েস্তাগঞ্জ শহর।

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এসএমএম/এমকেএইচ