ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিহত শিশু তালহার পরিবারে শোকের মাতম

জেলা প্রতিনিধি | সুনামগঞ্জ | প্রকাশিত: ১১:৩৩ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

এনামুল হক মুসা ওরফে তালহার বয়স মাত্র চার বছর। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে সে দ্বিতীয়। সে সবচেয়ে বেশি আদরেরও। সকাল-বিকেল সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখত তালহা। নেশাগ্রস্ত এক যুবক নিষ্পাপ শিশুটিকে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে খুন করেছেন। তার মৃত্যুতে পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা সবাই শোকে মুষড়ে পড়েছেন। অকালে বুকের ধন হারিয়ে দিশেহারা তার বাবা-মা।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের গুজাউড়া হাছননগরে বাসিন্দা নুরুল হকের দ্বিতীয় ছেলে এনামুল হক মুসা ওরফে তালহাকে একজন বিচারক বানাতে চেয়েছিলেন তার বাবা-মা। এখন সেটা শুধু স্বপ্ন থেকে গেল।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে নিহত তালহার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তালহার মা সুমি বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। পাশে বসা নিহত শিশুটির চাচি কেঁদেই চলেছেন।

এদিকে অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত আব্দুল হালিমের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, বাবা-মায়ের আদরের সন্তান ছিল তালহা। এলাকার লোকজনও তাকে খুব ভালোবাসত। শিশু তালহা হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানান তারা।

jagonews24

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা মেনে নিতে পারছি না যে, তালহা আজ আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। তালহাকে যিনি খুন করেছেন তাকে যদি দ্রুত শাস্তি না দেয়া হয় তাহলে আমরা এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুর নুর জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজকে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা সত্যিই খুব মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। একজন নেশাগ্রস্ত যুবক আজ চার বছরের শিশুটিকে খেলা অবস্থায় খুন করল। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নেশাগ্রস্ত লোক এমন নির্মম ঘটনা না ঘটাতে পারে। সেজন্য সরকার কঠোর কোনো আইন প্রয়োগ করুক।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শিশুটির বাবা নুরুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হলো। কী দোষ ছিল আমার অবুঝ ছেলের? এর পেছনে নিশ্চয় কেউ জড়িত আছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাই, আমার ছেলেকে আমি বিচারক বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা আর হলো না। আমার অবুঝ ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের খুনিদের ফাঁসি চাই।’

তালহা নামের চার বছরের এক শিশুকে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। তালহা শহরের গুজাউড়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে গুজাউড়া হাছননগরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল হালিম নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

হালিমের বাড়ি সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামে। পুরো ঘটনাটি পাশের একটি সিসিটিভির ক্যামেরা ধরা পড়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, তালহা শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলা করছিল। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া আব্দুল হালিম নামের নেশাগ্রস্ত ওই যুবক প্রথমে তাকে লাথি দিয়ে মাটিয়ে ফেলে দেয়। এরপর একটি ভারি পাথর দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি পাঁচবার আঘাত করে। এতে তাহলার মাথা তেতলে যায় ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে পাশের বাড়ির লোকজন গুরুতর অবস্থায় তালহাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনিত হলে সেখান থেকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লিপসন আহমেদ/এসআর