ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিজয়ের সকালেই না ফেরার দেশে চলে যান ‘বীর সেনানী’ ছায়েদুল হক

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চল হিসেবে খ্যাত নাসিরনগর উপজেলার উন্নয়নে মিশে আছে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের নাম। পাঁচবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালের বিজয় দিবসের প্রাক্কালে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও দৃঢ় চিত্তে সরকারি কর্মকর্তাদের তিনি বলেছিলেন, আমি এলাকায় যাবোই। আপনারা চিন্তা করবেন না, ব্যবস্থা করেন। বিজয় দিবসে আমি এলাকায় থাকবো।

কিন্তু সেই বিজয়ের সকালেই আসে ছায়েদুল হকের প্রয়াণের খবর। রণাঙ্গণের এই বীরের প্রয়াণের খবরে স্তব্ধ হয়ে পড়ে সবকিছু, সংক্ষিপ্ত করা হয় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানও।

২০১৭ সালের এই দিনে (১৬ ডিসেম্বর) মারা যান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহোচর ছায়েদুল হক। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

জীবদ্দশায় ছায়েদুল হক ছিলেন সততার মূর্ত প্রতীক। অর্থ-প্রাচুর্যের মোহ ছিলনা তার। সততার কারণে বারবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য হাওরবাসী ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ছায়েদুল হককে। হাওরবাসীর কাছে ‘ছায়েদ ভাই’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন আর সাধারণ মানুষকে নিয়েই ছিল তার সকল ভাবনা। তার নেয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের সঙ্গে সড়কপথে নাসিরনগর উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ছিল একটি মাইলফলক।

উল্লেখ্য ছায়েদুল হক ১৯৪২ সালে নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের উত্তপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের খ্যাতনামা এ আইনজীবী ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএমএম/এমকেএইচ