ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পদ্মা কেড়ে নিল বসতভিটা, মাথা গোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা বৃদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি | মুন্সিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জহুরা বেগম (৬০)। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ধরে পদ্মাপাড়ের সরকারী জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু জহুরা বেগমের কপালে সে সুখ আর সইল না। ছয় মাস আগে সর্বগ্রাসী পদ্মা তার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কেড়ে নিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের কান্দারবাড়ি গ্রামের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন জহুরা বেগম। পদ্মার ভাঙনে বসতভিটার বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেলেও খুঁটিহীন দুটি চালই এখন তার সম্বল। সে দুটি চাল খাড়া করে জীবন যাপন করছেন তিনি।

jagonews24

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙ্গে যাওয়া ঘরের দুটি চাল মাটির সাথে খাড়া করে কোন মতে দিন যাপন করছেন জহুরা বেগম। চালের দুটি অংশে ফাঁকা থাকায় হুরহুর করে বাতাস প্রবেশ করে। ফলে তীব্র শীতে অমানবিক জীবন যাপন করছেন তার পরিবার।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে থেকেই তিন মেয়ে ও দুই ছেলের বিয়ে দিয়েছেন জহুরা। বড় ছেলেরা এখন আর তার খোঁজ-খবর নেন না। কয়েক বছর ধরে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে দুই চালা টিনের ঘরে কোনোরকমে দিন পার করছিলেন। ঘরটিই ছিল তার একমাত্র সম্বল। কিন্তু সেটিও পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

jagonews24

জহুরা বেগম বলেন, দুই বছর হয় তার স্বামী মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর ছোট ছেলে জহিরুল ইসলাম (১৫) সংসারের হাল ধরেছেন। দিনমজুরের কাজ করে কোনো মতে সংসার চালাতে পারলেও বসতঘরটি পুনরায় নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই তাদের।

তিনি আরও জানান, আমি শুনেছি সরকার ঘর দিচ্ছেন। কিন্তু কোথায় ঘর চাইতে হবে জানিনা। আমার ঘর ভেঙ্গে গেছে এলাকার মেম্বারকে অনেক আগে জানিয়েছি।

jagonews24

দিঘীরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম হালদার জানান, ‘আমার কাছে ওই মহিলা কিংবা তার পক্ষে কেউ ঘরের জন্য আবেদন করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।’

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর বিতরণ এক মাসের মধ্যে শুরু হবে। আসা করি যাদের ঘর নাই ইনশাআল্লাহ সবাই ঘর পাবেন।’

আরএইচ/জেআইএম