নওগাঁয় ভোজ্যতেলের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রোজার আগে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম গত ১৫ মার্চ আরেক দফা বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলে ২ টাকা এবং বোতলে ৪ টাকা বেড়েছে।
কিন্তু এ ঘোষণার পর গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) থেকে নওগাঁর বাজারগুলোতে সয়াবিন তেলের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকানিদের বিরুদ্ধে। বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। মনিটরিংয়ের অস্বচ্ছতায় দোকানিরা এমন সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
নওগাঁ শহরে বড় কাঁচা বাজার, পাইকারি বাজার ও মসলাপট্টি বাজার ঘুরে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত সয়াবিন তেল বোতলের গায়ে লেখা মূল্যে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর বোতলের গায়ে থাকা মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
শহরের আরজী-নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সবজি কেনার পর দোকানে রূপচাঁদা ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে যাই। তেলের বোতলে ৬৩০ টাকা মূল্য লেখা থাকলেও দোকানি ৬৭০ টাকা নিয়েছে। দাম বেশি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তেলের দাম বৃদ্ধির কথা বলে।’
তার দাবি, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। প্রশাসনের নজরদারির অবহেলাতেই ভোক্তারা প্রতিনিয়ত এমন সমস্যায় পড়ছেন।
দাম বাড়তি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে শহরের কাঁচাবাজার এলাকার মুদি দোকানি সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের ৫ লিটার সয়াবিন তেল দুদিন আগে বোতলে লেখা ৬৩০ টাকা দামে বিক্রি করেছি। এখন তো তেলের বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পূর্বের মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব না। এজন্য ৫ লিটার সয়াবিন তেল এখন ৬৭০ টাকায় বিক্রি করছি।’
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা বাজার কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোজ্যতেলের দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি জানার পর বাজার পরিদর্শন করা হয়। পূর্বের কেনা তেল বেশি দাম নেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। বোতলের গায়ে যা লিখা আছে তা থেকে বেশি দাম নেয়া যাবে না। দোকানদারদের সাবধান করা হয়েছে। দ্রুত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আব্বাস আলী/এসজে/জিকেএস