বাঘিনীর মরদেহ উদ্ধার : মৃত্যুর কারণ জানতে হচ্ছে ফরেনসিক টেস্ট
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ধনচেবাড়িয়াচর এলাকার ভোলা নদীর চর থেকে উদ্ধার হওয়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মরদেহ ময়নাতদন্ত হয়েছে।
শনিবার (২০ মার্চ) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে মৃত বাঘিনীটিকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিএম আব্দুল কুদ্দুস মৃত বাঘিনীর ময়নাতদন্ত করেন।
এদিকে উদ্ধারের পাঁচদিন আগেই মারা যাওয়ায় বাঘিনীর লিভার ও হার্ট পচে গেছে। এ জন্য বাঘিনীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ঢাকায় ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিএম আব্দুল কুদ্দুস জানান, ময়নাতদন্তকালে দেখা গেছে, মৃত বাঘিনী উদ্ধার হওয়ার পাঁচদিন আগেই মারা গেছে। এ কারণে বাঘিনীর লিভার ও হার্ট পচে গেছে। একটি বাঘ সাধারণত ২০ বছর বেঁচে থাকে। তাই আনুমানিক ১৫ বছর বয়সের ৭ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রাপ্তবয়স্ক এই বাঘিনীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ভিসেরা সংগ্রহ করে ঢাকায় ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। ফরেনসিক ল্যাবের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বাঘটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নুল আবেদীন জানান, মৃত বাঘিনীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। শরীরের কোনো অঙ্গ-পতঙ্গও খোয়া যায়নি। এসব কারণে ধারণা করা হচ্ছে ১৫ বছর বয়সী এই মাদী বাঘটি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যেয়ে থাকতে পারে।
শরণখোলা রেঞ্জের ধনচেবাড়িয়ার চরে গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বনজীবীরা ওই মৃত বাঘিনীটি দেখতে পেয়ে সুন্দরবন বিভাগকে খবর দেয়। শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নুল আবেদীন বনরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে রেঞ্জে নিয়ে যায়।
এর আগে গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি শরণখোলা রেঞ্জের কটকা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডের অভয়ারণ্যের ছাপড়াখালী খালের চর থেকে একটি বাঘিনীর মরদেহ উদ্ধার হয়। ওই মৃত বাঘিনীটির পেছনের একটি অংশ কুমিরে খাওয়া অবস্থায় উদ্ধারের পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।
শওকত আলী বাবু/এসজে/এমকেএইচ