ঘর থেকে ধরে এনে যুবককে কুপিয়ে খুন
প্র্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ভাই-বোনের চোখের সামনে নাজির হোসেন (৩৮) নামের এক যুবক খুন হয়েছেন। এছাড়া এসময় তার ভাই-বোনসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে পাবনার সাঁথিয়ার ধোপাদহ ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পূর্ব শত্রুতার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত নাজির দয়ারামপুর গ্রামের মৃত ইলবাজ আলীর ছেলে ও স্থানীয় শশী গ্রুপের সদস্য।
আহতরা হলেন, নাজিরের বড় ভাই নাসির (৪২), ছোট ভাই রাজা (৩৬), বোন জেলেনা খাতুন (৪৬), তাদের আত্মীয় আবুল হোসেনের ছেলে সুমন (৩৫) ও মাহবুবের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৩৫)। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রতিপক্ষের নাজমুল হক (৩০)। তিনি তাজমল মেম্বার গ্রুপের লোক।
পুলিশ জানায়, গ্রামে আধিপত্য বিস্তারে তাজমল মেম্বার গ্রুপ ও এনামুল হক শশী গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। তাদের বিরোধ মীমাংসার জন্য বেশ কয়েকবার সালিসও বসে। কিন্তু দু’পক্ষই ছোটখাট বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকত।
বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মধ্যে এক দফা সংঘর্ষ হয়। সেসময় শশী গ্রুপের লোকজন তাজমল মেম্বারের ভাই নাজমুলকে (৩০) হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। তিনি বর্তমানে সাঁথিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর তাজমল মেম্বারের লোকজন দুপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শশী গ্রুপের লোকজনের বাড়িতে আক্রমণ চালায়। একপর্যায়ে তারা ঘরের ভেতর লুকিয়ে থাকা লোকজনকে ঘর থেকে বের করে এনে তাদের ওপর হামলা চালায়।
এসময় তারা নাজির হোসেনকে ঘর থেকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর তারা ওই বাড়ির আরো পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, আহত ছয়জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে ওসি সন্ধ্যা ৬টায় জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখনো শান্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
আমিন ইসলাম/এসএমএম/জেআইএম