ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনাকারী ভাইস চেয়ারম্যান হলেন স্কুলের সভাপতি

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ১০:১৫ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি হাইস্কুলের এডহক কমিটি নিয়ে বিতর্ক চলছে। উপজেলার লাউরফতেহপুর আরএনটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দেয়া হয়েছে নতুন আরেকটি কমিটি।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের স্বাক্ষরে অনুমোদন দেওয়া ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেককে। এছাড়া কমিটিতে পদাধিকার বলে সদস্য সচিব প্রধানশিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি শাহীন আরা বেগম ও অভিভাবক প্রতিনিধি করা হয়েছে রাশিদা সিদ্দিকাকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আল আমিন খান।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল রোববার বোর্ড থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিককে সভাপতি, পদাধিকার বলে প্রধানশিক্ষক সদস্য সচিব, শিক্ষক প্রতিনিধি শাহীন আরা বেগম ও অভিভাবক প্রতিনিধি রাশিদা সিদ্দিকাকে এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

৪৮ ঘণ্টার ব্যাবধানে এডহক কমিটির সভাপতি পাল্টে যাওয়া নিয়ে নবীনগর উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুটি বিজ্ঞপ্তিতেই উল্লেখ করা হয়, লাউরফতেহপুর আরএনটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড উল্লেখিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্মারকের ইস্যু তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য সভাপতির মনোনয়নসহ এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

এই স্কুলের এডহক কমিটি গঠন করা নিয়ে গত ১৬ মার্চ উপজেলা পরিষদ গেটে দিনে-দুপুরে প্রধানশিক্ষক আল আমিন খানকে লাঞ্ছিত করেন ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক। এনিয়ে চলে তোলপাড়।

বিষয়টি নিয়ে গত ২০ মার্চ স্থানীয় এমপি এবাদুল করিম বুলবুল ও সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদলসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক ও প্রধানশিক্ষক আল আমিন খানকে করমর্দন করিয়ে ঘটনাটির নিষ্পত্তি করা হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আল আমিন খান বলেন, মারধরের বিষয়ে আমি থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দিইনি। বিষয়টি স্থানীয় এমপি মহোদয় সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদলসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছেন। আমি শিক্ষক সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গিয়েছিলাম ওই সভায়।

তিনি বলেন, কমিটি দেয়া সম্পূর্ণ শিক্ষাবোর্ডের এখতিয়ার। বোর্ড দিলে তো আমি কিছু করতে পারব না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন, আমি এই বিষয়ে জানি না। আমি অফিসিয়াল কোনো চিঠি পাইনি। আমাকে কেউ জানায়নি। আপনারা যেমনটি শুনেছেন, আমিও তেমন শুনেছি। এটা শিক্ষাবোর্ড ভালো বলতে পারবে।

কমিটির বিষয়ে জানতে ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেকের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আবুল হাসনাত/এফএ/জেআইএম