ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সরকারি জায়গা দখল করে মক্তব-এতিমখানা নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ১২:৩৫ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২১

নওগাঁয় সদর উপজেলায় সরকারি জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে একটি মক্তব ও এতিমখানা। উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের গয়েরপাড়া মনছুর বিলে জলকর গুন্ডি মৌজায় এ স্থাপনা তৈরি করেছেন শফিকুল ইসলাম খাঁন।

তিনি নওগাঁ শহরের কালীতলা মহল্লার বাসিন্দা এবং একটি সরকারি হাসপাতালের সাবেক ফার্মাসিস্ট।

জনশূন্য এলাকায় খালের পাড়ে বাঁশের বেড়া ও টিনের চালা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে জ্বান্নাতিন নাঈম মক্তব ও এতিমখানা।

জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর বিল মনছুর বিলে বনায়ন এলাকায় খালের পাড়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে তিনটি ছোট ছোট ঘর তৈরি করেন শফিকুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে ‘জ্বান্নাতিন নাঈম মক্তব ও এতিমখানা’ নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে। পাশে দুইটি বাছুরসহ দুইটি বকনা বাঁধা আছে। স্থাপনার পাশে কয়েকটি আম গাছের চারাও লাগানো হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালে বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে মনছুর বিলের খাল খননের সময় খালের মাটি দিয়ে পাড় বাঁধা হয়। খালের পাড়ে যেখানে এ স্থাপনাটি গড়া হয়েছে সেটি বছরের প্রায় চার মাস থাকে পানির নিচে। স্থাপনার পাশাপাশি খালের পানিতে মাছ চাষ এবং পাশেই ধান চাষ করছেন শফিকুল।

jagonews24

তিনটি ঘরের মধ্যে রাতে একটি ঘরে গরুগুলো রাখা হয়। অন্য একটি ঘরে আছে মাছ ধরার ফাঁদ (খলিসান)। আর একটি ফাঁকা।

গয়েরপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলাম ও জিয়া রহমান বলেন, গ্রামে একটি মাদরাসা আছে। যেখানে হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আছে। আর মাঠের মাঝে খালের উপর যে মক্তব রয়েছে সেটি বছরের কয়েকমাস পানির নিচে থাকে। কোনো বাবা-মা সন্তানকে লেখাপড়ার জন্য ওই দ্বীপে রাখবে না। জায়গাটি দখল করতে সেখানে মক্তবখানার সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, ওই জমি আগে একজনের দখলে ছিল। পরে আমি দখলে নিয়েছি। সরকারি জায়গা সবাই যেভাবে দখল নিয়েছে আমিও সেভাবে দখল করেছি। জমির কাগজপত্র প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে। সেখানে আবাসিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, মাসকয়েক আগে এখানে যোগদান করেছি। বনায়ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ‘জ্বান্নাতিন নাঈম মক্তব ও এতিমখানা’ নামে সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। এছাড়া সেখানে ধান-মাছ চাষ এবং গরু পালন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মক্তবের মালিকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইল তিনি জানান, সেখানে মাদরাসা হবে। আর গরু বেঁধে রাখার বিষয়ে বলেন, বাচ্চারা দুধ খাবে। নিজের স্বার্থ উদ্ধারের তিনি এসব করেছেন। তাকে তার স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না। তবে বন কর্মকর্তারে কাছ থেকে জেনে নেবেন বলে জানান তিনি।

আব্বাস আলী/এসএমএম/জিকেএস