ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২১

নওগাঁর মান্দা-নিয়ামতপুর-শিবপুর-পোরশার ২৬ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। ফলে সড়কের এখন বেহাল দশা। এ অজুহাতে দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করছেন পরিবহন মালিকরাও। এত চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করে যাচ্ছে ঠিকাদার। তবে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর মান্দা-নিয়ামতপুর-শিবপুর-পোরশার এ সড়কটি এলজিইডির আওতায় ছিল। এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় চার বছর আগে এলজিইডি থেকে ২৬ কিলোমিটারের এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সড়কটি প্রশস্ত এবং পাকাকরণের জন্য ২০১৮ সালে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি। সড়কটির ২৬ কিলোমিটার রাস্তায় ৩১টি কালভার্ট ও তিনটি সেতু রয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পূর্বের কার্পেটিং তুলে ফেলা হলেও এরমধ্যে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার নিয়ামতপুর-টিএলবি পর্যন্ত কার্পেটিং করা হয়েছে। বাকি ২১ কিলোমিটারে কার্পেটিং না থাকায় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খোয়া পাথর উঠে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

jagonews24

রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালুর স্তূপ পড়ছে। প্রতিনিয়ত সাইকেল, মোটরসাইকেল, আটোভ্যান-রিকশা ও ভারী যানবাহনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে তেমনি পথচারীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টিএলবি বাজারের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও ভ্যান চালক সাত্তার হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে নিয়ামতপুর থেকে টিএলবি মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং হয়েছে। কিন্তু কার্পেটিংয়ের ফিনিসিং ভালো হয়নি। মনে হচ্ছে যেকোনো সময় কার্পেটিং উঠে যেতে পারে। বাকি রাস্তায় কার্পেটিং না থাকায় খোয়া ও পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাস্তার যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালিতে স্তূপ পড়ে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজন।’

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে শ্রমিক সঙ্কটসহ মালামাল না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওহেদ কন্সট্রাকশনের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আব্বাস আলী/এসজে/জিকেএস