৯৯৯-এ ফোন করে সাবেক স্বামীর বন্দিদশা থেকে মুক্তি
বগুড়ার শাজাহানপুরে স্ত্রীর ভবনসহ তার সম্পত্তি জবর-দখল করতে সন্তানসহ সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখে মারপিট, শ্লীলতাহানী, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে।
খবর পেয়ে ওই পরিবারকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে।
এ ঘটনায় সাবেক স্বামীসহ ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই নারী।
আসামিরা হলেন, উপজেলার রহিমাবাদ বি-ব্লক এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল খালেক (৪৮) ও তার তিন ভাই হারুন উর রশিদ (৩৫), আব্দুল মতিন (১৭), আব্দুল মালেক (৪৫) এবং বগুড়া শহরের টাউন কলোনী এলাকার মৃত তৈয়ব আলী প্রামানিকের ছেলে আতাউর রহমান ফটিক (৫২) ও শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে তরু মিয়া (৪৫)। আসামিদের মধ্যে আতাউর রহমান ফটিক এবং তরু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী ওই নারী জানান, তার বাবা একজন সেনা সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর বি-ব্লক এলাকায় জমি ক্রয় করে ইউসুব এন্টারপ্রাইজ নামে এক রেশন দোকানের ব্যবসা শুরু করেন। চাকরির সুবাদে তার বাবার সাথে পরিচয় হয় সেনা সদস্য আব্দুল খালেকের। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে আব্দুল খালেকের সাথে ১৯৯৮ সালে তার বিয়ে হয়।
সংসার জীবনে সাফিন আহমেদ (১৭) ও মোছা. তাছনিম (০৫) নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১০ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার স্বামী আব্দুল খালেক বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। এমতাবস্থায় ওই নারীর প্রবাসী দুই ভাই রহিমাবাদ মধপাড়া মৌজায় চার শতক জমি কিনে চারতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ওই বাড়ি বোনের নামে (ওই নারীকে) লিখে দেন দুইভাই। এমতাবস্থায় ওই বাড়িতে স্বামী, সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করা অবস্থায় ২০১৮ সালে স্বামী আব্দুল খালেক অপর এক সেনা সদস্যের স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এতে করে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ২০২০ সালে তিনি স্বামীকে তালাক দেন।
এরপর থেকে ওই বিল্ডিং বাড়ি জবর-দখলের চেষ্টা করতে থাকেন সাবেক স্বামী আব্দুল খালেক। গত বুধবার সকাল ৯টার দিকে সাবেক স্বামী আব্দুল খালেক বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে এসে বাড়িতে প্রবেশ করে পানির লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং দরজা, জানালা ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে তাকেসহ ছেলে সাফিন আহমেদ ও বৃদ্ধ মাকে মারপিট করে ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রেখে আলমারি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুই লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যান।
পরে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে থানা পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে।
শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই নারীর সম্পত্তি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং নির্যাতন করে আসছিলেন আসামি আব্দুল খালেক। ঘটনার দিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তালাবদ্ধ ওই নারী ও ছেলে সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ্যে দলবল নিয়ে গিয়ে মারপিট, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানী ও লুটপাট করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও জানান, আব্দুল খালেক একজন চোরাকারবারী গ্যাংয়ের প্রধান। কিছুদিন আগে ট্রাকভর্তি কয়লা চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তিনি। আদালত থেকে জামিনে এসে আবারও অপকর্ম শুরু করেছেন।
এফএ/জিকেএস