ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘ভুট্টা’ যেন চরাঞ্চলের সোনার ফসল

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ০৮:৩৯ এএম, ২৩ মে ২০২১

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, কাটাখালি, ঘাঘট নদী বেষ্টিত গাইবান্ধায় জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। সময়ের সঙ্গে নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় কখনো চর জাগে আবার বিলীন হয়। এসব চরে গম, ভুট্টা, খেসারি কলাই, মুগকলাই, কাউন, মরিচ, পেয়াজসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। চরের ফসলের তালিকায় ভুট্টা যেন ‘সোনা’ হিসাবে পরিচিত। যেমন ফলন, তেমনি দাম। চরের মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী বলেই ভাগ্যের চাকা ঘুরছে এখানকার চাষিদের।

সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা যায়, বালি মাটিতে ভুট্টার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। চাষিরা ভুট্টার কলা সংগ্রহ করে ঘরে তুলছেন। কেউ সংগ্রহ করা ভুট্টার কলাগুলো থেকে ভুট্টা বের করছেন। অপরদিকে ভুট্টার উৎপাদনে মিলছে সরকারি সহযোগী আর বাজারজাতে নেই কোনো বিড়ম্বনা। পাইকাররা বাড়ি এসে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা প্রতি মণ (৪০ কেজি) দরে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন।

jagonews24

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি বাঙালী নদীর তীরে দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। ফলন বেশ ভাল হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার চাষ বেশ লাভজনক। এ ফসলে চাষের মাধ্যমে আমরা স্বাবলম্বী হচ্ছি।

ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি আব্দুল করিম জানান, এ বছর চরে ভুট্টার ফলন বেশ ভাল হয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় সেচে খরচ বেশি হয়েছে। তবে ঝড়-বৃষ্টির ফলে প্রতি বছর ভুট্টার ক্ষেত হেলে পরে এতে ফলন কমে যায়। এবছর ফলনের কোনো সমস্যা হয়নি ।

jagonews24

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মমিন মিয়া বলেন, ভুট্টা চাষের ফলে আমরা গত পাঁচ বছরে অনেক লাভবান হয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ফুলছড়ি হাটে আসে ভুট্টা কিনতে। বিক্রি করতেও কোনো সমস্যা হয় না।

সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দ গ্রামের ইদ্রিস আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবছর ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে। বিঘায় খরচ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ৪০ মণ ভুট্টার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

jagonews24

এই গ্রামের বাবু মিয়া অভিযোগ করেন, আমরা প্রতিবছর ভুট্টার চাষ করি। কৃষি অফিসের কোনো সহযোগিতা পাইনা। সরকারি ভাবে যদি সার ও বীজ পাওয়া যেতো তাহলে ভুট্টার চাষ খরচ কম হতো।

গাইবান্ধার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌতমচন্দ্র মোদক জাগো নিউজকে বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পরে গাইবান্ধার চরাঞ্চল যেন ধু-ধু মরুভূমি। সময়ের সঙ্গে চরের মাটিকে ফসলের উপযোগী করতে চাষিরা নিরলস চেষ্টা করেছেন। তাই এখন চরাঞ্চলের গেলে মনে ভরে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভুট্টার সোনালী রঙ মন জুড়িয়ে দেয়।

jagonews24

সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাদেকুজ্জান জাগো নিউজকে বলেন, ভুট্টা চাষ বাড়াতে আমরা কৃষকদের সরকারি খরচে প্রদর্শনী দিয়ে আসছে। এছাড়াও সরকারি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন ও উদ্বুদ্ধকরণসহ সব ধরনের সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ মাঠে কাজ করছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর গাইবান্ধা জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে । কৃষি ফসল হিসাবে ভুট্টা খুবই লাভজনক। চরাঞ্চলে এই ফসলের চাষ দিন দিন বাড়ছে। এই চাষে সরকারিভাবে কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছেন।

জাহিদ খন্দকার/আরএইচ/জিকেএস