ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রবাস ছেড়ে খামারে সফল ডালিম

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ০১ জুন ২০২১

নওগাঁর চকদেব জনকল্যাণ পাড়ায় দুগ্ধ খামার করে সফল হয়েছেন প্রবাসী সেলিম রেজা ডালিম। প্রবাস জীবন ফেলে পাঁচ বছর আগে একটি উন্নত জাতের গরু দিয়ে শুরু করেন খামার। লাভবান হওয়ায় খামারটি বড় করেছেন। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড়সহ প্রায় ২০টি উন্নজাতের গরু রয়েছে।

সেলিম রেজা ডালিমের খামারে ফিজিয়ান অস্ট্রেলিয়া ও সিন্ধি জাতের ২০টি গরু রয়েছে। কিছুদিন আগে প্রতিদিন ১৫০ লিটার দুধ হতো। বর্তমানে পাঁচটি গাভি দুধ দিচ্ছে। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৯০ লিটার দুধ হয়। দিনে দুই বার মেশিনের সাহায্যে সকাল ও বিকেলে দুধ দহন করা হয়। সকালের দুধ স্থানীয় মিষ্টির দোকানে এবং বিকেলের আশপাশের বাড়িতে ৫০ টাকা লিটার হিসেবে বিক্রি করেন। খাবারের চাহিদা মেটাতে সাড়ে চার বিঘা জমিতে নেপিয়ার ও এক বিঘাতে পাংচং ঘাস রোপণ করেছেন।

নওগাঁ জেলা ডেইরী ফার্মস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স সুখবার্তা ডেইরী ফার্মের মালিক সেলিম রেজা ডালিম বলেন, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর খামার শুরু করি। একটি গাভি দিয়ে শুরু করে খামারে এখন ২০টি গরু আছে। একটি সিন্ধি, বাকীগুলো ফিজিয়ান অস্ট্রেলিয়া।

jagonews24

খামারিদের প্রধান সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দানাদার খাবারের দাম ঊর্ধ্বমূখী। খামার টিকিয়ে রাখতে হলে দানাদার খাবারের দাম কমানো প্রয়োজন। ঘাসের জমি থাকায় অনেকটা উপকৃত হচ্ছি। কিন্তু যাদের জমি নেই তাদের পক্ষে খামার টিকানো অসম্ভব। ৮০ আঁটি (একপোন) খড়ের দাম ৫২০ টাকা। গোখাদ্যের দাম বাড়ালে কেউ কিছু বলে না। কিন্তু দুধের দাম বাড়ালে গুঞ্জন শুরু হয়। আবার যখন দুধের দাম কমে যায় ক্রেতা পাওয়া যায় না তখন লোকসান গুনতে হবে। কারণ দুধের দাম কম বা বেশি যায় হোক না কেন গরুকে খাবার দিতেই হবে। তবে দুধের ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে খামারিদের জন্য সুবিধা হবে।

তিনি আওর বলেন, যারা উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তাদেরকে অবশ্যই নিজে গরু বা খামার দেখাশুনা করতে হবে। কারণ শ্রমিক দিয়ে খামার দেখাশুনা করে লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় কথা ভাল জাতের গরু দিয়ে (দুগ্ধ ও মাংস) খামার শুরু করতে হবে। তাহলে লোকসানের সম্ভবনা থাকবে না।

সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ইউনিয়নের মখরপুর গ্রামের গৃহবধূ পরিনা বিবি বলেন, বাড়িতে ১০টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে তিনটি গাভি দুধ দিচ্ছে। প্রতি বছর গরু থেকে সংসারের একটা আয় হয়ে থাকে। আমরা দুধের দাম না পেলেও গোয়ালরা ঠিকই দুধের দাম পান।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ওয়েবসাইটে দেখা যায় নিবন্ধনকৃত গরুর খামার ৬৫৬ এবং অনিবন্ধনকৃত খামার ৬৯টি। জেলায় বাৎসরিক দুধ উৎপাদনের পরিমাণ তিন লাখ ৩২৪৬ মেট্রিক টন। যেখানে চাহিদা রয়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার ২৬৪ মেট্রিকটন এবং উদ্বৃদ্ধ থাকে ৬৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিকটন।

আব্বাস আলী/এএইচ/এমকেএইচ