প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে কিশোরীকে অপহরণ, উদ্ধার হয়নি ৬ দিনেও
প্রধান অভিযুক্ত জয় দাশ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে এক কিশোরীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ২৮ মে বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার ছয়দিন পার হলেও অপহরণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মেয়েকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন অপহৃতার মা স্বরসতী বালা দাশ।
এই ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড পহরচাঁদা গ্রামের শম্ভু দাসের ছেলে জয় দাশ (১৯), রতন দাসের ছেলে রাকেশ দাস (১৭) ও শুকলাল দাশের ছেলে সুভাষ দাস (১৯)।
স্বরসতী বালা দাস থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত জয় দাশ এলাকার পরিচিত ইভটিজার। আমার মেয়ে নদী দাস কৈয়ারবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয় আসা-যাওয়ার পথে জয় দাশ আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো, কুপ্রস্তাব দিত। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে আমার মেয়েকে অপহরণ বা সমাজে কলঙ্কিত করবে বলে হুমকি ধামকি দেয় সে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে দেখিয়ে নেবে বলে হুমকি দেয় জয় দাশ। এরই জের ধরে ২৮ মে বিকেল পাঁচটার দিকে স্কুল থেকে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়।’
অভিযোগে ওই কিশোরীর মা উল্লেখ করেন, ‘খোঁজাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থেকে সিএনজিতে করে নদীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সিএনজি নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বাঁচাতে চিৎকার করে নদী। আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকজন গাড়ির পেছনে গিয়েও ধরতে পারেনি।’
অপহৃত ছাত্রীর মা বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের ফোন করলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপহরণকারীদের নাম জেনে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাই। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানালেও গত ছয়দিনেও মেয়েকে ফেরত পাইনি।’
স্বরসতী বালা আরও বলেন, ‘জয় দাশ আমার মেয়েকে গোপন স্থানে আটক রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করছে বলে আমার ধারণা। আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে অপহরণকারীদের কবল হতে উদ্ধারের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জয় দাশের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হয়। তবে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ জুবায়ের অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েই আমরা ভিকটিমকে উদ্ধারে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। বুধবার রাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। মেয়ে যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক তাই এ ঘটনায় অপহরণ ও শিশু নির্যাতন মামলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এএসএম