মাদক কারবারিকে ছাড়তে টাকা নেয়ার অভিযোগ ডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
পত্নীতলার নির্মইল ইউনিয়নের রাধানগর উত্তরপাড়া গ্রামের আম বাগানে ওই অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ
নওগাঁয় ফেনসিডিলসহ আটক দুই মাদক কারবারির একজনকে ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। এছাড়া জব্দ তালিকায় ফেনসিডিলও কম লেখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও রাজিবুল ইসলাম নামে ওই পরিদর্শক এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।
মাদক মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন বিকেল ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে জেলার পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নের রাধানগর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি আম বাগান থেকে রাজু বাবু (২৫) ও আলমগীর হোসেন (২৪) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। স্থানীয়রা সেখানে বিষয়টি দেখার জন্য ভিড় করেন।
এ সময় হলুদ রঙের প্লাস্টিকের তিনটি ব্যাগ থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। যেখানে প্রথম ব্যাগে ৪০ বোতল এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাগে ৩০টি করে ৬০ বোতল ফেনসিডিল ছিল। যা তালিকায় প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে উদ্ধারস্থলে জব্দ দেখানো হয়। কয়েকজনের স্বাক্ষরও নেয়া হয় তালিকায়।
পরিদর্শক রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির ওই অভিযানে অংশ নেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল, এসআই তরিকুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোসলেম উদ্দিন, কনস্টেবল গোলাপ উদ্দিন ও কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজু বাবু ও আলমগীর হোসেন আত্মীয়। তাদের আটক করা অবস্থায় ঘটনাস্থলে হলুদ রঙের প্লাস্টিকের চারটি ব্যাগ ছিল। ব্যাগের ভেতর কী ছিল তা কাউকেই দেখানো হয়নি। ডিবি পুলিশ তিনজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর নেয়। ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার আগে তাদের হাতে চারটি ব্যাগের পরিবর্তে তিনটি ব্যাগ দেখতে পান স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জব্দ তালিকায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনটি হলুদ ব্যাগ উদ্ধার করে ১০০ পিস ফেনসিডিলের কথা বলা হয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের কাছ থেকে শুধু সাক্ষর নেয়া হয়েছে। তবে ব্যাগের ভেতরে কী পরিমাণ ফেনসিডিল ছিল তা দেখানো হয়নি।
আটক রাজুর বাবা আহাদ আলী বলেন, ‘ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। ছেড়ে দেয়ার জন্য ডিবি পুলিশ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাড়িতে এসে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হয়নি।’
মামলার এক নম্বর সাক্ষী আরমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পরে যাই। সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসামিদের পেয়েছেন কি-না এমন কথা বলে আমার কাছে স্বাক্ষর চাইল। স্বাক্ষর নেয়ার পর তারা মোটরসাইকেলে উঠে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে চলে যায়। তাদের কাছে থাকা তিনটি ব্যাগে কী ছিল বা কী পরিমাণ ফেনসিডিল ছিল তা আমাদের দেখানো হয়নি।’
মামলার তিন নম্বর স্বাক্ষী আয়নাল হকও একই ধরনের কথা বলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান বলেন, ‘যখন ওই দুজনকে আটক করা হয় তখন ঘটনাস্থলে চারটি ব্যাগ মাটিতে রাখা ছিল। কিন্তু যখন দুজনকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে তখন তিনটি ব্যাগ দেখেছিলাম। ব্যাগে কী আছে তা কাউকেই দেখানো হয়নি। আটকের সময় একজন নারীকে দেখেছিলাম। ওই নারীকে আমরা চিনি না।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযানে অংশ নেয়া এসআই তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ পরিদর্শক রাজিবুল ইসলাম ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনিই সব বলতে পারবেন।’
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ও অভিযানের নেতৃত্বদাতা রাজিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক এবং ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। তবে আটকদের ছেড়ে দেয়ার শর্তে কোনো টাকা দাবি করা হয়নি। এমনকি কোনো টাকাও নেয়া হয়নি।’
আব্বাস আলী/এসজে/এইচএ/এএসএম