দলিল অফিসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ৫ জন কারাগারে
বাঁ থেকে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, সভাপতি এরশাদ আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন রানা
নওগাঁয় সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় এজাহারভুক্ত চারজন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ ২ নম্বর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার বসাক এ নির্দেশ দেন।
এরা হলেন- প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এরশাদ আলী (৫০), সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার (৪৫), সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন রানা (৩০) ও খাদেমুল ইসলাম (৫৫)।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশীদ।
এর আগে, শনিবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের দাওইল গ্রাম থেকে দলিল লেখক সমিতির সদস্য মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে পাঁচজন আসামি রয়েছেন কারাগারে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতি সাধারণ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করে আসছেন। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে হয়রানি শিকার ও জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ করে দেন তারা।
৮ জুন দৈনিক যুগান্তর ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি আব্বাস আলীর বড় ভাই আসাদ আলী তার পারিবারিক জমি রেজিস্ট্রি করতে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতিতে যান। সেখানে দলিল লেখকের সাধারণ সম্পাদকের বাবুল আক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে একটি দলিল ১২ লাখ টাকা মূল্যে করতে চান। এতে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। যা সরকারি মূল্যের চাইতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।
বিষয়টি আসাদ আলী তার ছোট ভাই সাংবাদিক আব্বাস আলীকে জানালে তিনি সশরীরে সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারের সঙ্গে দেখা করে খরচ কিছু কমানোর অনুরোধ জানান। কোনো কম হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। দলিল রেজিস্ট্রিতে সরকারি খরচের বিষয় জানতে চাইলে বাবুল আক্তারসহ অফিসের আরও কয়েকজন আব্বাস আলীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করে দলিল লেখক সমিতি চত্বর থেকে বের করে দেন।
বিষয়টি সাবরেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করতে তার এজলাস ঢুকলে ১০-১২ জন তাকে এজলাস কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বারান্দায় নিয়ে মারধর করেন। আব্বাস আলীর কাছে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেন তারা। যার মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি বাবদ নগদ ৩ লাখ টাকা, ভিডিও ক্যামেরা ও একটি ল্যাপটপ ছিল।
পরে কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্বাস আলী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আব্বাস আলী/এসজে/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ সিন্ডিকেটের বাধায় দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটকা, পথেই মারা গেল রোগী
- ২ ঘোড়া প্রতীকে ভোট চেয়ে বিপাকে হবিগঞ্জের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুজাত
- ৩ সীমান্ত পার হওয়ার সময় কুমিল্লায় হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেফতার
- ৪ বালুভর্তি ট্রাকে লুকানো ছিল দেড় কোটি টাকার চোরাই শাড়ি
- ৫ পুলিশকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামিকে