নাফনদীর তীরে ঘুরছে দুই হাতি
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদীর তীরে দুটি হাতি দুদিন ধরে নদীর তীরেই ঘুরছে। তবে হাতি দুটি শুক্রবার ভোরে টেকনাফ নেটং পাহাড়ের কাছাকাছি পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকায় নাফ নদীর প্যারাবনে দেখতে পাওয়া হাতিগুলো নাকি নতুন করে মিয়ানমার থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমানায় এসেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাতি দুটি সোমবার (২৮ জুন) রাত ৮টা পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাশের ঝাউবনে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে দিনের বেলা নদীর কিনারায় কিছু সময় ঠাঁই দাঁড়িয়ে আবার কিছু সময় এদিক সেদিক ঘুরেছে।
খাদ্যের অভাবে হাতি দুটি দুর্বল হয়ে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রাণী দুটি দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে, হাতি দুটিকে বনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হুমায়ুন কবির।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রোববার (২৭ জুন) দুপুর থেকে হাতি দুটিকে শাহপরীর দ্বীপ নাফনদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন লোকজন। এরপর হাতিগুলো এখানে-সেখানে ঘুরছিল।
এর আগে, শুক্রবার ভোরে দুটি হাতিকে টেকনাফ নেটং পাহাড়ের কাছাকাছি পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকায় নাফ নদীর প্যারাবনে দেখতে পাওয়া যায়। পরের দিন সন্ধ্যায় বনবিভাগ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা হাতি দুটিকে বনের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে দেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে হাতি দুটি ফের বন থেকে বের হয়ে নাফদীর প্যারাবনে ফিরে আসে।

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আশিক আহমেদ জানান, হাতি গুলো মিয়ানমার হতে নাফ নদী সাঁতরে টেকনাফের কুলে ভিরেছে। গত বছরও একই ভাবে আরো একটি হাতি নদী পার হয়ে এপারে এসেছিল।
ঘোলার চরের কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, হাতি দুটি খাদ্যাভাবে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত কাদার মধ্যে খুবই দুর্বলভাবে দাঁড়িয়েছিল। আরও দুর্বল হয়ে গেলে কাদা ও জোয়ারে পানি থেকে কূলে উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, হাতিগুলো যেকোনোভাবে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বনে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। তবে আতঙ্ক একটাই, যেহেতু বুনো হাতি তাই শাহপরীর দ্বীপ থেকে টেকনাফের মূল বনে দীর্ঘ ১৪-১৫ কিলোমিটার পথ আনতে গিয়ে কোনো পাড়ায় ঢুকে গেলে অনাকাঙিক্ষত যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়টি নিয়েই আমরা সবাই বিচলিত।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এএসএম