ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁও শিশুপার্কের নির্মাণকাজ যাচ্ছে ব্যক্তিখাতে

জেলা প্রতিনিধি | ঠাকুরগাঁও | প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২১

পুরো ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে নেই কোনো বিনোদনকেন্দ্র। শিশুদের জন্যও গড়ে ওঠেনি কোনো পার্ক। জেলা পরিষদের শিশুপার্ক নির্মাণের ঘোষণায় তাই উচ্ছ্বসিত ছিল শহরবাসী। তবে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি পার্কটি। উপায়ান্তর না দেখে দেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিখাতে।

বিনোদনের জন্য কোনো নির্ধারিত স্থান না থাকায় শহরবাসী ছোটেন জেলা স্কুলের বড় মাঠে। খোলামেলা পরিবেশে খেলাধুলা কিংবা বিকেলের নরম রোদে সময় কাটাতে শিশুদের নিয়ে যান বাবা-মা। মাঠটিও আবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক ভাগে চলে খেলাধুলা, আরেক ভাগে মুক্ত বাতাসের টানে আসা শহরবাসী কাটান সময়। তবে মানুষের ভিড়ে মুক্ত বাতাস সেখানেও যেন অধরা।

জানা যায়, শিশুদের বিনোদনের জন্য ২০১০-১১ অর্থ বছরে শহরের টাঙ্গন নদীর ধরে একটি শিশুপার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করে জেলা পরিষদ। সেসময় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, প্রাচীর নির্মাণ, প্রবেশ গেট ও টিকিট কাউন্টার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এরপর অজানা কারণেই থেমে যায় নির্মাণকাজ।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ১০ বছরেও পার্কটিতে কোনো রাইড বা খেলার সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি। পার্কের ভিতরের জায়গা পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের কিছু সরঞ্জাম রাখা রয়েছে পার্কের একপ্রান্তে।

পার্কের পাশেই সদ্য নির্মিত টাঙ্গন সেতুতে সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বাচ্চাদের তো সব সময় বাসায় বন্দি করে রাখা ঠিক না। একটু বাইরে ঘুরতে নিয়ে এসেছি। খুবই দুঃখজনক যে, আমাদের শহরে শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। তাদের খেলার জন্যে নির্দিষ্ট কোনো মাঠও নেই। শিশুপার্কটি হলে খুব ভালো হয়।

সমাজকর্মী সুবর্ণ বলেন, ২০১০ সালে যখন জানতে পারি ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ একটি শিশুপার্ক করছে তখন বেশ ভালো লেগেছিল। আমাদের শহরে শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি পার্ক প্রয়োজন। কিন্তু এই ১০ বছরেও এটা সম্পন্ন হলো না। পার্কটির কাজ শেষ করে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।

jagonews24

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জাবেদ আলী বলেন, শিশুদের বিনোদনের খেলার মাঠ বা খোলা জায়গা জরুরি। শিশুদের যদি ঘরে আবদ্ধ রেখে শুধু টিভি, অনলাইন বা কম্পিউটার বিনোদনের মধ্যে রাখা হয় তাহলে তারা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী জানান, জেলা পরিষদের পক্ষে অর্থায়ন সম্ভব না হওয়ায় ব্যক্তি উদ্যাগে শিশুপার্ক করার জন্য পার্কের জমিটি লিজ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ব্যক্তি উদ্যাগে শিশুপার্কের কাজ শুরু হবে।

তানভীর হাসান তানু/এএ/জিকেএস