অবশেষে স্কুলমুখী কুমিল্লা বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক
স্কুলমুখী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের খবর নিতে সরেজমিনে যাওয়া শুরু করেছেন কুমিল্লা বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও নার্সরা। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ। এছাড়া বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এবং অবস্থান সম্পর্কেও তাদের জানান দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে দৃশ্যমান স্থানে লাগানো হয়েছে সাইনবোর্ড। যথা সময়ে উপস্থিত হয়েছেন মেডিকেল কর্মকর্তা ও নার্সসহ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের। সে অনুযায়ী নগরীর উজির দিঘিরপাড় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশে সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বের হন কর্মরতরা। পর্যায়ক্রমে যান অন্য বিদ্যালয়েও।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজে ‘৬৮ বছরেও কুমিল্লার কেউ জানে না বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ১৯৫৩ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুলের পাশেই স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আওতাধীন বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধলাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য বিবেচনায় দুজন মেডিকেল কর্মকর্তা, দুজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন এমএলএস নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে একজন মেডিকেল কর্মকর্তা ও এমএলএস পদটি শূন্য।
আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত আট মাসে ৪০১ জন নারী-পুরুষ প্রতিষ্ঠানটি থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। গড় হিসাব করলে দেখা যায়, দৈনিক ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ রোগী এসেছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে। এদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি মাসে পরিদর্শন, স্বাস্থ্য কমিটি গঠন এবং প্রচার-প্রচারণার কথা থাকলেও তা না করায় ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেক শিক্ষকও জানেন না বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম ও অবস্থান। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি খোলা থাকার কথা থাকলেও নিজেদের খেয়ালখুশি মতো অফিস করছেন মেডিকেল কর্মকর্তা ও নার্সসহ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

সংবাদ প্রকাশের পর মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের। দৃশ্যমান স্থানে লাগানো হয়েছে সাইনবোর্ড। করা হয়েছে আগাম পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের খবর নিতে এবং সেবা সম্পর্কে অবগত করতে স্কুলে স্কুলে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা। সেখানে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জানান দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান।
এসব বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এসজে/এএসএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৬ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ
- ২ মা হারালেন বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা
- ৩ মন্ত্রী হয়ে রাজশাহী গিয়ে তিন ইচ্ছার কথা জানালেন মিনু
- ৪ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে লালন স্মরণোৎসব, ছেঁউড়িয়ায় বাড়ছে ভক্তদের ভিড়
- ৫ নাব্য সংকটের অজুহাতে কাটছে না ১০ জেলার মানুষের দুর্ভোগ