ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশের হারানো টাকা পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন কলেজছাত্র

জেলা প্রতিনিধি | সুনামগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৯:১০ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

পৃথিবীতে সততা বলতে একটা যে কথা আছে সেটা প্রমাণ করলেন কলেজছাত্র বিদ্যুৎ দাস। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার গোয়েন্দা শাখার সহকারী উপ-পরিদর্শক আল আমিন সুহেলের হারিয়ে যাওয়া ২৯ হাজার টাকা পেয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করে তার হারানো টাকা ফিরিয়ে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সুখাই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান বিদ্যুৎ দাস সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে উপজেলার ইসহাকপুর থেকে জগন্নাথপুর থানায় মোটরসাইকেলযোগে ফেরার পথে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট এলাকায় খামের ভেতর থাকা ২৯ হাজার টাকা আল আমিন সুহেলের পকেট থেকে পড়ে যায়। খামভর্তি টাকা পান বিদ্যুৎ দাস।

ডিএসবির ওই কর্মকর্তা যখন বুঝতে পারেন তার স্ত্রীকে পাঠানোর জন্য জমাকৃত টাকাগুলো হারিয়ে গেছে তখন তিনি থানার সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন। অন্যদিকে টাকা পেয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েন বিদ্যুৎ দাস। তিনি তার বন্ধুদের পরামর্শে জগন্নাথপুর বাজারের দুটি মসজিদে কিছু টাকা পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা দেন। এতে কোনো সাড়া না পাওয়া যায় না।

পরে জগন্নাথপুর বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে বন্ধু জুবায়েরকে দিয়ে কিছু টাকা পাওয়া গেছে বলে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এ স্ট্যাটাসটি জগন্নাথপুর থানার ওসির গাড়িচালক মাহাতাব হোসেনের নজরে আসে। তারপর যোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দাস পুলিশ কর্মকর্তার টাকাগুলোর বিষয়টি নিশ্চিত হন।

ডিএসবি কর্মকর্তা আল আমিন সুহেল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে একজন ভালো মানুষ টাকাগুলো পাওয়ায় ফিরে পেলাম। সত্যি আমি খুব খুশি। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য টাকাগুলো পাঠাতে চেয়েছিলাম। টাকা হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়ি, টাকা ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

বিদ্যুৎ দাস বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর পয়েন্টে রাস্তায় পড়ে থাকা খাম দেখে হাতে নেই। পরে দেখি খামভর্তি টাকা। দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই কীভাবে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেবো। সহকর্মীদের পরামর্শে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেই। এতে কোনো কাজ হয়নি। আমার ফেসবুকে অল্প সংখ্যক ফলোয়ার থাকায় আমি বন্ধু জুবায়েরকে দিয়ে তার ফেসবুক থেকে টাকা পাওয়া গেছে বলে একটি স্ট্যাটাস দেই। টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।

লিপসন আহমেদ/বিএ/এএসএম