গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে শাশুড়ি-ননদ গ্রেফতার, স্বামী পলাতক
পাবনার সাঁথিয়ায় ফাতেমা খাতুন মীম (২০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে শাশুড়ি ও ননদকে।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের চকপাটা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী নাজমুল হোসেন লিখন পলাতক রয়েছেন। এর আগে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মীমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন-গৃহবধূর শাশুড়ি রেহেনা বেগম ও ননদ শাপলা খাতুন। অভিযুক্ত স্বামী লিখন একই উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের চকপাটা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই এর ছেলে। আর নিহত মীম সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের দোপমাঝগ্রাম গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মাত্র ৯ মাস আগে ফাতেমা খাতুন মীমের সঙ্গে বিয়ে হয় নাজমুল হোসেন লিখনের। এর পর থেকেই তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য ওই গৃহবধূর ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে যৌতুকের টাকার জন্য মীমকে বেদম মারধর করেন তার স্বামী। এতে মীমের মৃত্যু হলে মৃতদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান লিখন। পরদিন সোমবার স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গৃহবধুর বাবা আব্দুস সামাদ সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মীমের স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় গৃহবধূর ননদ ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী লিখনকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পুরাপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে যে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এফআরএম/জেআইএম