ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নির্মাণাধীন ব্রিজের মালামাল নিতে ভাঙা হলো আরেক ব্রিজের রেলিং

জেলা প্রতিনিধি | রাজবাড়ী | প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২১

নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের মালামাল নিতে পাঁচ-ছয় মাস আগে ভাঙা হয়েছিল আরেকটি ব্রিজের এক পাশের রেলিং। তবে দীর্ঘ দিনেও ভাঙা রেলিং সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের একটি মৈশালা থেকে লাঙ্গলবাদ সড়কটি। এ রাস্তাটি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানা এবং পাংশা ও কালুখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের সহজ পথ।

প্রতিদিন ট্রাক, নসিমন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও পথচারীরা চলাচল করে রাস্তাটি দিয়ে। এলজিইডির তত্ত্বাবধায়নে রাস্তাটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটিতে ছোট বড় এবং নতুন পুরাতন বেশ কয়েকটি ব্রিজ আছে। এর মধ্যে নন্দী পুকুর চালা সংলগ্ন ব্রিজটি পুরাতন ও সরু।

jagonews24

পাঁচ-ছয় মাস আগে কসবামাঝাইল ইউনিয়নের গড়াই নদীর ওপর নাদুরিয়া ঘাটে নির্মাণাধীন ব্রিজের মালামাল বহনকারী বড় একটি ট্রাক নন্দী পুকুর চালা ব্রিজে আটকা পড়ে। সে সময় ব্রিজটির একপাশের রেলিং ভেঙে মালামাল পরিবহন করা হয়। কিন্তু এখনো ব্রিজটির ভাঙা রেলিং সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা রেলিংয়ের বেরিয়ে থাকা রড এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেই কোনো সতর্কতামূলক নির্দেশনাও। ওই ব্রিজের রেলিং দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মিয়া, কামাল মন্ডল, হাবিবুর রহমান বলেন, ব্রিজের একপাশের রেলিং দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙা। এছাড়া ব্রিজটি সরু। প্রতিদিন এখান দিয়ে ছোট বড় অনেক গাড়ি চলাচল করে। যখন রেলিং ভাঙা হয়েছিল, তখন বলছিল ঠিক করে দেবে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও রেলিং ঠিক করা হয়নি। এখন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুত ব্রিজটির সংস্কার না হলে, যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে।

jagonews24

ট্রাকচালক সফিকুল ইসলাম, অটোরিকশাচালক সুবাস চন্দ্র মন্ডল ও ভ্যানচালক চেনিরুদ্দিসহ কয়েকজন বলেন, নাদুরিয়া লাঙ্গলবাদ ঘাটের নির্মাণাধীন ব্রিজের মালামাল নিয়ে আসা একটি বড় ট্রাক ঢুকতে না পারায় নন্দী পুকুর চালা ব্রিজটির রেলিং ভাঙা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও রেলিং ঠিক করা হয়নি। এখন ঝুঁকি নিয়ে তারা চলাচল করছেন। বিশেষ করে রাতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। একটু অসাবধানতা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত ব্রিজটির রেলিং সংস্কারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে মৌরাট ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রামানিক জাগো নিউজকে বলেন, গড়াই নদীর ওপর ব্রিজ হচ্ছে। ওই ব্রিজের পাথর বহনকারী দশ চাকার গাড়ি যাওয়ার সময় রেলিংটি ভাঙা হয়। পরে আমি বিষয়টি জানতে পারি। রেলিং সংস্কারের জন্য এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া সতর্কতার জন্য রেলিংয়ের পাশ দিয়ে লাল কাপড় টানিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু সেগুলো পোলাপান ফেলে দেয়।

রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী বিমল কুমার দাস জাগো নিউজকে বলেন, এটি গ্রাম্য ও সরু রাস্তা। কারা কী কারণে রেলিংটি ভেঙেছে সেটি জানি না। যদি কেউ ভেঙে থাকে, তাহলে তাদের দিয়েই সেটি সংস্কার করার ব্যবস্থা নেবো।

রুবেলুর রহমান/এসজে/এএসএম