সেই ওসি জালাল আবারও সেরা
পাবনার আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। রোববার (৭ নভেম্বর) পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি অক্টোবর মাসের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হন। পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান তার হাতে পদক তুলে দেন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার, অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ সাফল্য পাওয়ায় ওসি জালাল সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি থানার প্রবেশদ্বারসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ হাট বা বাজার এলাকায় সিসিটিভি লাগানোর ব্যবস্থা করেছেন। এতে অপরাধী শনাক্ত সহজীকরণসহ অপরাধপ্রবণতা কমেছে। তিনি এর আগে এ বছরের ১৩ জুন পাবনা জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিশেষ পুরস্কার পেয়েছিলেন।
পাবনার সাঁথিয়া, আটঘরিয়া এবং পাবনা সদর উপজেলার কিছু ইউনিয়ন মিলে ২০০১ সালে গঠিত হয় আতাইকুলা থানা। গঠনের পর থেকেই থানাটি ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত ছিল। এ থানা এলাকা এক সময় সন্ত্রাসী এবং চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল আতাইকুলা থানা। একসময় চরমপন্থীদের আনাগোনা কমে গেলেও মাদকে ভরে যায় গোটা আতাইকুলা থানা এলাকা। দীর্ঘ বছর এটা চলে আসলেও বন্ধ হচ্ছিল না। তবে ওসি জালাল উদ্দিন যোগ দেয়ার পর তিনি মাদক কারবারি আর জুয়াড়িচক্র ভেঙে ফেলতে সক্ষম হন।
পাবনার আতাইকুলা থানার দুবলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও আনসার ভিডিপি ব্যাংক এর সাবেক পরিচালক আব্দুল খালেক খাঁন জানান, এলাকায় এখন মাদক ব্যবসা ও জুয়াড়িদের আনাগোনা কমেছে। পাশাপাশি বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে গেছে।
চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নায়েব আলী জানান, তাদের গ্রামের প্রায় পরিবারের লাকজন গরুচুরি ঠেকাতে গোয়াল ঘরে শুয়ে থাকতেন। বিগত কয়েকমাসে তাদের গ্রামে একটি গরুও আর চুরি হয়নি।
ওসি জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, পাবনা পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খাঁনের নির্দেশনা তাকে বিশেষ অনুপ্রাণিত করেছে। সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি আতাইকুলা থানাকে জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। জনগণের সেবক হিসেবে তিনি ও তার সহকর্মীরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। তার ফলে সাফল্য পাচ্ছেন। তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সাফল্যের ধারা তিনি অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট বলে জানান। জেলা সেরা হওয়ায় তার কাজের দায়ভার আরেকটু বেড়ে গেল বলে তিনি জানান।
ওসি জালালএ বছর মার্চে আতাইকুলা থানায় যোগ দিয়েই গোটা এলাকার আইনশৃঙ্গলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে সক্ষম হন। তার কর্মতৎপরতা নিয়ে তিন মাসেই আতাইকুলার দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছেন ওসি জালাল শিরনামে সংবাদ প্রকাশ করে জাগো নিউজ। পরে তা ভাইরাল হয়।
উল্লেখ্য, এ পুলিশ কর্মকর্তা ২০০৭ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি ২০২১ সালের মার্চ মাসে পাবনার আতাইকুলা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/এএসএম