ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই হাতে আঙুল নেই, এসএসসি পরীক্ষায় অদম্য মোবারক

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০২১

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানেই সবকিছু থেমে যাওয়া নয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দিকে না তাকিয়ে যে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় তা প্রমাণ করেছে কুড়িগ্রামের শিক্ষার্থী মোবারক আলী। দুই হাতে আঙুল না থাকলেও দমে যায়নি সে। দিচ্ছে এবারের এসএসসি পরীক্ষা। এর আগে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে।

মোবারক আলী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের দিনমজুর এনামুল হকের ছেলে। সে কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের নয় নম্বর কক্ষে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা দিতে অতিরিক্ত সময় লাগে না মোবারক আলীর। অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সে।

মোবারক আলীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকে দুই হাতের কব্জি ছিল না তার। তাই তাকে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন অভিভাবকরা। কিন্তু পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে থাকে পরিবার।

মোবারক আলীর মা মরিয়ম বেগম বলেন, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মোবারক বড়। সে ভীষণ মেধাবী। নিজের কাজগুলোর প্রায় সবই নিজে করতে পারে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তারপরও তাকে উচ্চ শিক্ষা দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মোবারক আলী বলে, হতদরিদ্র পরিবারে আমার জন্ম। কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি যেনো ভাল রেজাল্ট করে বাবা-মাসহ শিক্ষকদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।

কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়দুল হক বলেন, মোবারক প্রতিবন্ধী হলেও যথেষ্ঠ মেধাবী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও পারদর্শী। আশা করছি সে এবারও ভালো ফলাফল করবে।

ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব গোলাম কিবরিয়া বলেন, মোবারক আলী অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষার খাতায় লেখা শেষ করছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস বলেন, বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাকে সাধুবাদ জানাই। শারীরিক প্রতিবন্ধী মেধাবী ওই শিক্ষার্থীর পড়ালেখা যেনো থেমে না যায় সেজন্য তাকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

মো. মাসুদ রানা/ইউএইচ/জিকেএস