ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দখলে উধাও ফুটপাত

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

নওগাঁ শহরে গত এক দশকে মানুষ এবং যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু রাস্তাঘাট রয়েছে আগের মতোই। অপরিকল্পিতভাবে শহরে ব্যাটারিচালিত অটোচার্জার (ইজিবাইক), ভ্যান, রিকশা ও সিএনজি বেড়েছে। তবে নতুন কোনো রাস্তা তৈরি এবং প্রশস্ত না করায় শহরে বাড়ছে যানজট। ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি বলছেন বাসিন্দারা।

শহরের সরিষাহাটির মোড় থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, বাটার মোড়, ব্রিজ মোড়, লিটন ব্রিজের ওপর ও তাজের মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত দখল করে আছেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। গোস্তহাটির মোড় থেকে মিষ্টিপট্টি, চুড়িপট্টি, তুলাপট্টি, কাপড়পট্টি, আটাপট্টি ও ডাবপট্টিতে স্থায়ী দোকানিরা তাদের দোকানের সামনের জায়গা দখল করে মালামাল রাখেন। এতে করে রাস্তায় ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যান চলাচল করায় পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাস্তার দুই পাশ দোকানিদের দখলে থাকায় পথচারীরা রাস্তার দুই পাশ দিয়ে যেতে পারেন না।

নওগাঁ পৌরসভা যানবাহন শাখা সূত্রে জানা যায়, শহরে লাইসেন্সধারী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০টি। রিকশা রয়েছে প্রায় এক হাজার। এছাড়া লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে আরও প্রায় ৩০০টি ছোটযান।

দখলে উধাও ফুটপাত

স্বপ্ন সারথি পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি আরাফাত হোসেন হিমেল জাগো নিউজকে বলেন, শহরে ২০টিরও বেশি প্রধান সড়ক রয়েছে। তারপরও সড়কে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। যানজটে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

দখলে উধাও ফুটপাত

শহরের বাসিন্দারা জানান, আলোর অপর্যাপ্ততা, পয়ঃনিষ্কাশনের অব্যবস্থা, ডাস্টবিন স্বল্পতা, মশার উপদ্রব, নিরাপত্তাজনিত সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা। তাদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

দখলে উধাও ফুটপাত

নওগাঁয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন আটচালার সাধারণ সম্পাদক অনিন্দ্য তুহিন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে ফুটপাতগুলোতে হাট-বাজার বসেছে। যে কারণে পথচারীদের হাঁটতে হচ্ছে রাস্তার মাঝ দিয়ে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। দখলদারদের কাছ থেকে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত হওয়া দরকার। তাহলে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। তবে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অন্যত্র পুনর্বাসন করারও জরুরি।

দখলে উধাও ফুটপাত

জানতে চাইলে নওগাঁ পৌরসভা যানবাহন ইন্সপেক্টর নুরুল ইমলাম মন্টু বলেন, ‘শহরে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল করে। সকাল হলেই পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তারা শহরে চলে আসেন। আবার দিন শেষে ফিরে যান। পৌরসভার লাইসেন্স ছাড়া ইউনিয়ন থেকে কোন যান শহরে প্রবেশ করতে পারবে না—এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। এ কারণে যানজটের একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়।’

দখলে উধাও ফুটপাত

নওগাঁ পৌরসভা মেয়র মো. নজমুল হক সনি বলেন, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে গাড়ি আসার ফলে যানজটের সমস্যা হচ্ছে। এনিয়ে সমন্বয় মিটিংয়ে আলোচনাও করেছি। শহরে যে কয়েকটি প্রবেশদ্বার রয়েছে সেখানে যদি ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা করে তাহলে যানজট কিছুটা কমবে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযানে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া যেতো না। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হয়েছে। শহরের সবচেয়ে প্রশস্ততম রাস্তা হচ্ছে তুলাপট্টি ও মিষ্টিপট্টি। অথচ তুলার বস্তা রাখার কারণে সেখানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ছোট যমুনা ব্রিজের ওপর নির্মিত লিটন ব্রিজটি বেশি চওড়া না। অথচ সেখানে হকার বা কিছু ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে রেখেছে। মানবিক বিবেচনায় তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। কিন্তু সমস্যা বেড়ে চলছে। এখন এটা উচ্ছেদ করা দরকার বলে মনে হচ্ছে।

দখলে উধাও ফুটপাত

মশার উপদ্রব বিষয়ে মেয়র বলেন, নিয়মিত ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা সম্ভব হয় না। এটা ব্যয়বহুল মেশিন। নিয়মিত তিনজন লোক দিয়ে ড্রেনে হ্যান্ড মেশিন (হ্যান্ড স্প্রে) দিয়ে কীটনাশক স্প্রে করে মশা নির্মূলের ব্যবস্থা করা হয়।

আব্বাস আলী/এসআর/জেআইএম