কয়লার দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে শরীয়তপুরের ভাটা মালিকরা
কয়লার দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে শরীয়তপুরের অধিকাংশ ইটভাটা চালু করতে পারছেন না মালিকরা। লোকসানের আশংকায় মালিকরা ভাটা বন্ধ রেখেছেন বলে জানা গেছে।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্র জানায়, শরীয়তপুরে ৫৮ ইটভাটা রয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকায় কয়েক বছর ধরে তারা কয়লা পুড়িয়ে ইট তৈরি করছেন। কিন্তু কয়লার দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ৩৮ ভাটা এখন বন্ধ রয়েছে।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল খান বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে যশোর ও খুলনা থেকে কয়লা আনতে হচ্ছে। এতে প্রায় তিনগুণ বেশি খরচ পড়ছে।
‘গত বছর ইট তৈরির মৌসুমে প্রতি টন কয়লা যেখানে সাড়ে সাত-আট হাজার টাকায় কিনেছেন, এবার সেই কয়লা কিনতে ২১ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে ইট আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ভাটা মালিকরা মূলধন হারানোর আশঙ্কা করছেন’ বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের বালার বাজার আরবিএন ও আংগারিয়া ইউনিয়নের এলআরবি ব্রিকসের মালিক রিটন কুমার সাহা জানান, গত মৌসুমের শুরুতে প্রতি টন কয়লা আট হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছিলাম। এবার সেই কয়লা সাড়ে ২১ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কার্তিকপুর এলাকার এমআইডি ব্রিকসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রশিদ বাবু মাদবর বলেন, চলতি বছর ৩০ লাখ টাকার কয়লা কিনেছি। একই পরিমাণ কয়লা কিনতে গত বছর খরচ হয়েছিল প্রায় ৯ লাখ টাকা। যেহেতু ইটের ব্যবসা করি। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবছরও ভাটা চালু করেছি। তবে কয়লার দাম বেশি থাকায় এবছর লোকসানে পড়তে হবে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ কারণে প্রায় পাঁচ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
মো. ছগির হোসেন/এএইচ/জিকেএস