নোয়াখালীর নির্বাচনে বরিশাল জেলা প্রশাসনের কর্মচারী!
নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থীর পক্ষে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বরিশাল জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মচারী অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজিমুল হায়দার, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাফিজুল হক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. খোরশেদ আলম খান রাতে জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে বরিশাল জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা অংশ নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কেউ দোষী হলে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) লুৎফুল হায়দার লেলিন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন হায়দারের ছোটভাই। তার পক্ষ হয়ে সোমবার (১০ জানুয়ারি) রাতে কালেক্টরেট সহকারী সমিতির নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা।
এতে কালেক্টরেট সহকারী সমিতির একাধিক সদস্য জানান, সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে সংগঠনের নোয়াখালীর সদস্যদের ব্রিফিং করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল এ শাখার উচ্চমান সহকারী ও বরিশাল কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সভাপতি মাহফুজুর রহমান। এসময় তার সঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসকের চতুর্থ শ্রেণির চারজন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মাহফুজুর রহমান নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফুল হায়দার লেলিনের পক্ষে ভোট করার জন্য নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। এছাড়া কিভাবে প্রচারণা করতে হবে তার কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা প্রশাসনের ওই কর্মচারীরা সোমবার দুপুর ২টায় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী আসেন। তারা ওইদিন সন্ধ্যায় নোয়াখালী কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে জেলা সার্কিট হাউসে রাত যাপন করেন। আজ (মঙ্গলবার) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীদের বাসায় গিয়ে ভোটের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিলো তাদের।
বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দারের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল এ শাখার উচ্চমান সহকারী মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৫ তারিখে আমাদের একটা সাংগঠনিক সভা আছে। সে বিষয়ে নোয়াখালীতে বসেছিলাম। নোয়াখালীর নির্বাচনে আমরা কাউকে চিনি না আর আমাদের কথায় কেউ ভোটও দেবে না। এখানে আমাদের কোনো আত্মীয় স্বজনও নেই। তাই অতিউৎসাহী কেউ হয়তো বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আগামী ১৬ জানুয়ারি নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর হলেন, বর্তমান মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল (নৌকা), লুৎফুল হায়দার লেলিন (মোবাইল), শহিদুল ইসলাম কিরন (কম্পিউটার), আবু নাছের (নারিকেল গাছ), মো. কাজী আনোয়ার হোসেন (জগ), মো. শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও মো. সামছুল ইসলাম মজনু (লাঙ্গল)।
ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/জেআইএম