ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সেই কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন, জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) | প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলী কর্তৃক ১০ হাজার তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলা ক্ষতিগ্রস্ত সেই কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন ইউএনও ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে পশ্চিম চাপলী গ্রামের ওই ক্ষেত পরিদর্শন করেন তারা।

পরিদর্শন শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক। সেই সঙ্গে আগামী তিনদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইউএনও বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Farmer-(3).jpg

এর আগে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ‘কৃষকের ১০ হাজার তরমুজ গাছ উপড়ে ফেললেন পাউবো প্রকৌশলী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগোনিউজ২৪.কম। প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে পশ্চিম চাপলী গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢালে ১৫ হাজার তরমুজ গাছের চারা রোপণ করেন কৃষক দেলোয়ার খলিফা। রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকালে দেলোয়ারের ১০ হাজার তরমুজ গাছের চারা উপড়ে ফেলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের মাঠ প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় অসহায় কৃষক দেলোয়ার খলিফার কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

Farmer-(3).jpg

আজ ওই তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন শেষে কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখানে কৃষক দেলোয়ারের চাষ করা যে তরমুজ গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে তা আসলে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো। কৃষক দেলোয়ারের জন্য সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থার চেষ্টা করবো।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত হয়েছেন। কৃষক দেলোয়ার ওই ক্ষেতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছেন, আর সম্পূর্ণ টাকাটাই তিনি ঋণ করেছেন। আগামী দু-একদিনের মধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।’

সংবাদের প্রেক্ষিতে প্রকৌশলীর বক্তব্য

ধুলিশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিম লতাচাপলি এলাকায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১০৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের চূড়া পুনর্নির্মিত হয়। কৃষক দেলোয়ার অবৈধভাবে বাঁধ এলাকায় তুরমুজের চারা রোপণ করে। এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তিন লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন হন। আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে বাঁধটিকে পূর্বাবস্থায় নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত আগ্রহী। পরামর্শদাতা সংস্থার প্রকৌশলী হিসেবে আমি সহমত পোষণ করি। দেলোয়ার হোসেনকে তরমুজের চারাসমূহ অপসরণের তাগাদা দিলেও সে এতে কর্ণপাত করেনি।

এমতাবস্থায় ১৬ জানুয়ারি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োজিত লেবার তরমুজের চারা উপড়ানোর সময় ঘটনাস্থল উপস্থিত ছিলাম ( ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেক্রমে)। ঘঠনাস্থলে উপস্থিত গণ্যমান্যদের সালিশি প্রস্তাব মোতাবেক কৃষক দেলোয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত পূর্বক পূর্বাবস্থায় আনয়নের শর্তে তরমুজের চারা উপড়ানো থেকে বিরত থাকে চাইনিজ টিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকৃতপক্ষে, উপড়ানো চারার সংখ্যা ৬৫০টি। ৬০০ তরমুজ চারা এখনও বাঁধের উপর রয়েছে। বাঁধের কার্যকারিতা রক্ষা, উপকূলবাসীর জানমালের নিরাপত্তাসহ বাঁধের ক্ষতিসাধন তথা সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধকল্পে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প ছিল না।

তবে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ধুলাস্বার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল আকন বলেন, এটা নিয়ে কোনো শালিস বসেনি। বরং গাছগুলো না তুলতে প্রকৌশলীকে বার বার অনুরোধ করি।

প্রত্যক্ষদর্শী এনায়েত নামের একজন জানান, এখানে কোনো শালিস হয়নি। গাছ তুলতে দেখে কৃষক দেলোয়ার তার পা ধরে কান্না করেছে। এ সময় আমরাও অনুরোধ করি। কিন্তু উনি কোনো কথায় শোনেনি। 

এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ জানান, পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে ৩২০০ তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/এসআর/এমএস