ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মির্জাপুরে ভেঙে ফেলা ৩ ইটভাটা ফের চালু

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) | প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভেঙে ফেলা সেই অবৈধ তিনটি ইটভাটা আবারও চালুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কয়লার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে কাঠও পোড়ানো হচ্ছে। এতে জমি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৬ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে মির্জাপুরের পাঁচটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেয়। এছাড়া ওই সময় পাঁচ ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা করে জরিমানাও আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ভেঙে ফেলা ইটভাটাগুলো হলো- গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া এলাকার শহীদুর রহমানের ভাই ভাই ব্রিকস, শাহ আলমের দিশা-আশা ব্রিকস, রানাশাল এলাকার আওলাদ হোসেনের হাকিম ব্রিকস, মির্জাপুর সদরের বাইমহাটী গ্রামের সুলতান উদ্দিনের স্টার স্টাইল ও পাকুল্যা এলাকায় রাজীব চৌধুরী ব্রাদার্স ইটভাটা। কিন্তু জরিমানা ও ইটভাটা ভেঙে ফেলার পরও তিনটি ভাটায় আগের মতোই ইট তৈরির কাজ চলছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চলতি বছর ভাই ভাই ব্রিকস, দিশা-আশা ব্রিকস ও রানাশাল এলাকার হাকিম ব্রিকস ভাটায় আবারো ইট তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া স্টার স্টাইল ব্রিকস চালুর প্রস্তুতি চলছে।

mi-(2).jpg

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, ধেরুয়া ও রানাশাল এলাকায় ইটভাটা তৈরি হওয়ার আগে জমিতে ফসল ভালো হতো। গাছে অনেক ফল ধরতো। ভাটা হওয়ার পর ফসল উৎপাদন ও ফল ধরা কমে গেছে। কিছু বলার নেই। ভাটার ধোঁয়ার কারণে আশপাশের বাড়িগুলোতে ফলের গাছে ও ফল ধরছে না। কিন্তু ভাটা ভেঙে দেওয়ার পরও আবার চালু হয়েছে।

ভাই ভাই ব্রিকস, দিশা-আশা ব্রিকস ও রানাশাল এলাকার হাকিম ব্রিকসের মালিক যথাক্রমে শহীদুর রহমান, শাহ-আলম ও আওলাদ হোসেন জানান, তারা উচ্চ আদালতে রিট করে পুনরায় ভাটা চালু করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় ১০৫টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৭৫টি ইটভাটার ২০২১ সাল পর্যন্ত অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছিল এবং ৩৫টি ইটভাটার অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছিল না। চলতি বছর কয়েকটি ভাটা বন্ধ রয়েছে। বাকি সব ভাটায় ইট তৈরি করা হচ্ছে।

গত বছর অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলা পাঁচটি ভাটার মধ্যে তিনটি পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট নেই। অভিযান পরিচালনার জন্য বিচারক চেয়ে জেলা প্রশাসক ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পত্র দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতে ওই তিন ভাটার মালিক রিট করে ভাটা চালু করেছেন কিনা জানতে চাইলে মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তারা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। তবে আদেশ পাননি। ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বা ছাড়পত্র পায়নি তারা আর কখনো অনুমোদন ও ছাড়পত্র পাবেন না।

এস এম এরশাদ/এসজে/এমএস