নারায়ণগঞ্জে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি রিমান্ডে
গ্রেফতার জুবায়েদ স্বপ্নীল
নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি জুবায়েদ স্বপ্নীলের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২ মার্চ) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নূর মোহসীন এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার রুমা চক্রবর্তীর স্বামী ও অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তীর বাবা রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রামপ্রসাদ ‘মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সে’ চাকরি করেন। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বাড়ির মালিকের ভাগনে জানান তাদের ভবনের নিচে অনেক লোক জড়ো হয়েছেন। রামপ্রসাদ গিয়ে দেখেন ভবনের ফটক বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা। ভেতর থেকে তার ছেলে হৃদয়ের স্ত্রী শিলা কান্নাকাটি করছে।
শিলা জানান তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে এক যুবক রুমা ও ঋতুকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। শিলাকে হত্যার জন্য রান্নাঘরে বঁটি হাতে নেন হামলাকারী। তবে শিলা কৌশলে সেই বঁটি ছিনিয়ে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে নিচে নামেন। হামলাকারী যুবক তাকে ধাওয়া করে নিচে নামেন, তবে ততক্ষণে ভবনের অন্য লোকজন এসব টের পেয়ে বাইরে থেকে ফটক আটকে দেয়। ওই যুবক ফের ছয়তলার ফ্ল্যাটটিতে ফিরে যায়।
শিলা শুনে রামপ্রাসাদ স্ত্রী রুমার মোবাইল ফোনে কল করলে তা রিসিভ করেন ওই যুবক। টাকা-গয়না কোথায় আছে জানতে চান। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। ততক্ষণে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। পুলিশসহ রামপ্রাসাদ ফ্ল্যাটে গিয়ে ওই যুবককে আটক করে। উদ্ধার করে মরদেহ।
এদিকে জুবায়েদের বাবা শহরের পাইকপাড়াপুল এলাকার লবণ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তার ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়। তবে আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় পড়ালেখা চালাতে পারেনি। এক দেড় মাস ধরে তার ছেলে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছি। শুনানি শেষে বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুবায়েদ জানিয়েছে, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের জন্যই দুজনকে খুন করেছে।
ওসি আরও বলেন, জুবায়েদ ওই ভবনের ষষ্ঠ তলার আরও একটি ফ্ল্যাটে কলবেল বাজিয়েছিল। কিন্তু ওই ফ্ল্যাটের কেউ দরজা খোলেনি। পরে পাশের রামপ্রসাদের ফ্ল্যাটের কলবেল বাজালে ওই ফ্ল্যাটের দরজা রুমা চক্রবর্তী খুললে প্রথমে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করে জুবায়েদ। পরে ঋতু এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসজে/এএসএম