যাবজ্জীবন সাজায় ৫ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে গ্রেফতার সাবেক চেয়ারম্যান
র্যাবের হাতে গ্রেফতার সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে সাবেক এক চেয়ারম্যানকে হত্যার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আরেক সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (৬ মার্চ) সকালে তাকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হুমায়ূন কবির নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার বিকেলে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ২০০৯ সালে নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন হুমায়ূন কবির। তার সঙ্গে স্থানীয় কুড়িঘর বাজারের জমি বিক্রি করা নিয়ে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসছিল। ২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর জিল্লুর রহমান কুড়িঘর বাজারে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করা হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিল্লুর রহমানের ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২০১৭ সালের মে মাসে হুমায়ূন কবিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর পলাতক থাকেন তিনি। অবশেষে পাঁচ বছর পর আজ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, হত্যাকাণ্ডের রায়ের পর হুমায়ূন কবির আত্মগোপনে চলে যায়। সে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামে জায়গা-জমি কিনে বাড়ি করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যায়। সেখানে সে স্থায়ীভাবে বসবাস করার চেষ্টা করে। তার ভাইকেও সেখানে জায়গা কিনে বাড়ি করে দিয়েছে। তার বড় ছেলেকে সেখানে বিয়ে করিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আমরা গ্রেফতার করেছি।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/এএসএম