ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খালিয়াজুরী হাওরে পানি বাড়ায় কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক

জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোনা | প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২২

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীতে ধনু নদের পানি আরও বেড়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ক্রমেই পানি বাড়ছে। ধনু নদের পানি বাড়তে দেখে নিম্নাঞ্চলের হাওরগুলোতে কাঁচা ধান কাটতে শুরু করেছেন চাষিরা।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত সোমবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় প্রদেশের চেরাপুঞ্জিতে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের যাদুকাটা ও সুরমা নদী দিয়ে নেমে খালিয়াজুরী পয়েন্টে ধনু নদে পানি বেড়েছে আরও ১০ সেন্টিমিটার। দুপুর ১২টার দিকে পরিমাপ করে দেখা গেছে, ধনু নদের পানি বিপৎসীমার মাত্র ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের হিসাবে এ উপজেলায় ২১ হাজার ১২০ হেক্টর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত প্লাবিত জমির পরিমাণ ৩৭০ একর। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো জমি প্লাবিত হয়নি।

তলিয়ে যাওয়া জমিগুলো কীর্তনখোলা, লক্ষ্মীপুর, চুনাই, বাইদ্যারচর, কাটকাইলের কান্দা, টাকটার, মনিজান, লেবরিয়া, হেমনগর, গঙ্গাবদর, নয়াখাল, বাগানী, বৈলং ও ডাকাতখালী হাওরের নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা। অনেকে পানিতে ডুবে যাওয়া কাঁচা ধান কেটে কিছু পরিমাণ হলেও ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

খালিয়াজুরী সদরের পুরানহাটি গ্রামের সুজন মিয়া ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই জমিগুলোর ধান পাকতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন দরকার ছিল। তারপরও কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছি। অন্তত গরুর খাবারের তো ব্যবস্থা করা যাবে।’

খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম ফালাক বলেন, যদি আরও তিন-চারদিন একটু বেশি পরিমাণে পানি বাড়ে তাহলে সব ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে। ২০১৭ সালের মতো হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার ভয়াবহতা দেখা দেবে।

ওই সময়ে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সৃষ্ট আগাম বন্যায় খালয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা উপজেলার হাওড়ের শতভাগ ফসল তলিয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরের কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান (ব্রি-২৮) কিছুটা কাটা শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে কাটা-মাড়াই আরও ১০ থেকে ১৫ দিন পর শুরু হবে। এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢল আসতে শুরু করায় আমরা অনেকটা আতঙ্কিত।’

এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম