শরীয়তপুর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, স্যালাইন-ওষুধ সংকট
সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড
শরীয়তপুরে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন ৫০ জন রোগী। জেলা সদর হাসপাতালে রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ। বেড খালি না থাকায় মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে আইভি স্যালাইন, রাইস স্যালাইনসহ অন্য ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে রোগীদের।
সদর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ১০৮ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছেন। অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।

সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের দড়িহাওলা গ্রামের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আট মাসের ছেরে হিরাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন সিমু আক্তার। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। প্রথম দিন হাসপাতালের মেঝেতে ছিলাম। কিন্তু মশার কামড় খেতে হয়। ফ্যান ছিল না, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। এরপর রোগী কমলে বেডে নেওয়া হয়। আইভি স্যালাইন, রাইস স্যালাইনসহ সব ওষুধ বাইর থেকে কিনে আনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাইনি।
বুড়িরহাট এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সালমা বেগম (৪২) বলেন, তিন দিন আগে থেকে আমার হঠাৎ বমি ও ডায়রিয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছিলাম তাতে ভালো হইনি। তাই বুধবার হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে একটি খাবার স্যালাইন ও একটি ইনজেকশন দিয়েছে। বাইরে থেকে আইভি স্যালাইনসহ অন্য ওষুধ কিনে আনতে হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের ডায়রিয়া আক্রান্ত আদিবার (২) মা সুমাইয়া আক্তার বলেন, পাঁচদিন যাবত আমার মেয়ে অসুস্থ। দুদিন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিলাম। মেয়ের অবস্থা ভালো না তাই ডাক্তার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ হাসপাতালে এসেছি মেয়ে সুস্থ হবে এ জন্য। কিন্তু এখানে যে অবস্থা, তাতে আমার মেয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওষুধ সবই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। দুটি মাত্র শৌচাগার রয়েছে এখানে। তার অবস্থাও করুণ।
সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স নুর জাহান জাগো নিউজকে বলেন, বেশি রোগী থাকলে দুজন করে এবং কম থাকলে একজন নার্স রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আইভি স্যালাইনও শেষ হয়ে গেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রয়েছে ১০টি বেড। রোগী বেশি হওয়ার কারণে অতিরিক্ত পাঁচটি বেড আনা হয়েছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সোবাহান জাগো নিউজকে বলেন, ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অসচেতনতা, আবহাওয়া পরিবর্তন ও হঠাৎ গরম পড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সাধ্যমত রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালে স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ঔষধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জাগো নিউজকে বলেন, গরমের কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এ সময় বিশুদ্ধ খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সবাইকে
টাটকা ও তরতাজা খাবার খেতে হবে।
মো. ছগির হোসেন/এসজে/জিকেএস