রমজানে ভাসমানদের ইফতার দিচ্ছে ‘আমরা গোলাপ’
রেললাইনের খোলা আকাশের নিচে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে
ঠিকানাহীন জীবনে প্রশান্তির ইফতার কল্পনার সীমায়ও ঠাঁই মেলে না। তার ওপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পছন্দের ইফতার কিনে খেতেই সারাদিনের রোজগারের বেশিরভাগই ব্যয় হওয়ার উপক্রম। তাই সুবিধাবঞ্চিত ভাসমান মানুষগুলোকে রমজানে ইফতার দিয়ে আসছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা গোলাপ’।
নোয়াখালীর চৌমুহনীর রেলস্টেশনে খোলা আকাশের নিচে ‘মানবিক ইফতার’ শিরোনামে প্রতিদিন বিনামূল্যে ১০০ জনকে ইফতার দিচ্ছে তারা। ইফতার সামগ্রীতে থাকে খেজুর, মিনারেল পানি, ছোলাবুট, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, জিলাপি, সরবত ও মৌসুমী ফল।

স্বেচ্ছাসেবী সাখাওয়াত রাসেল, ইয়াসিন রুবেল, মো. হোসেন আহমদ, ইমাম হোসেন অন্তর, ইয়াসিন আরাফাত রানা, আফিফ আল আজাদসহ স্বেচ্ছাসেববৃন্দ ইফতার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন।
তারা জানান, প্রতিজনের জন্য ইফতার আয়োজনে খরচ হচ্ছে ৩৯ টাকা। ১০০ জনের জন্য তিন হাজার ৯০০ টাকা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বানে এরইমধ্যে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন।

রিকশাচালক আবদুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিজের বাড়ি ছিল লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে। নদীতে বাড়ি-ঘর বিলীন হওয়ার পর গত পাঁচ বছর চৌমুহনীতে রিকশা চালাই। কিন্তু করোনার সময় ইফতারতো দূরে থাক দুমুঠো খেতেই পাইনি। এ মানবিক ইফতারে প্রতিদিন পেটভরে ইফতার খাই। দোয়াও করি।’
ভাসমান হকার মো. মশিউর বলেন, ‘হকারি করে যে টাকা পাই তাতে খাবার জোটে না। গত কয়েক বছর এখানে ইফতার করি। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের পর খুব শান্তি লাগে। ভাইয়ারা খুব আদর করে ইফতারি দেয়।’

ইফতার বিতরণ কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনীম ফয়সাল বলেন, সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। সে দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ইফতার আয়োজন শুরু হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে পুরো রমজানে কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।
মানবিক ইফতারের শিডিউল ম্যানেজার ফখরুল ইসলাম অর্নব বলেন, করোনাকালে লঙ্গরখানা চালুকে কেন্দ্র করে এ ভাসমান মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। রেলওয়ে স্টেশনে রাত যাপন করা কিংবা আশ্রয় নেওয়া এই মানুষগুলোর জন্য ইফতারের আয়োজন ছিল তৈরি হওয়া সম্পর্কের মানবিক বোধ থেকেই। তাই এবছরও ইফতারের আয়োজন করা।

২০০৯ সাল থেকে আমরা গোলাপ ছিন্নমূল, ভাসমান ও পথশিশুদের নিয়ে কাজ করলেও মহামারি করোনাকালে ‘লঙ্গরখানা’ প্রজেক্টের জন্য সারাদেশে আলোচনায় আসে। সে সময় অনেক এলাকায় খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি দেখা যায়। বর্তমানে তাদের ‘মানবিক ইফতার’ শিরোনামে শুধু নোয়াখালীর অন্তত চারটি জায়গায় মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন চলছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/জিকেএস