শিশু তাসপিয়ার হত্যাকারীদের কেউই রেহাই পাবে না: পুলিশ সুপার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাবার কোলে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শিশু তাসপিয়ার হত্যাকারীরা কেউই রেহাই পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ১৪ নম্বর হাজীপুর ইউনিয়নে শিশু তাসপিয়া হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি একথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো। আমরা এরই মধ্যে কিছু অপরাধীকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এর আগে সন্ত্রাসকবলিত হাজীপুর ইউনিয়নে মাদক, সন্তাস, জঙ্গিবাদ, নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়তে বিট পুলিশিংয়ের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে হলে আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিট পুলিশিং কিংবা থানায় জানান। নিরাপত্তা ও সেবা আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ।’
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) মো. রাজিবুল হাসান, হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আজিম মির্জা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, শিশু তাসপিয়া হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় বেগমগঞ্জের পূর্ব হাজীপুর গ্রামের মালেকার বাপের দোকানের সামনে জমির মাটি কাটা নিয়ে সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় শিশুসন্তান তাসপিয়াকে কোলে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন প্রবাসী জাহের। গুলিতে তিনিসহ তার শিশুকন্যা তাসপিয়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টায় শিশু তাসপিয়া কুমিল্লায় মারা যায়।
শিশু তাসপিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ১৭ জনের নামোল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ২৪। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এএসএম