শতবর্ষীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিলেন মুসলিম শুভাকাঙ্ক্ষীও
ফুলের তোড়া দিয়ে শতবর্ষী মধু সুধন পালের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান মুসলিম শুভাকাঙ্ক্ষীরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা শতবর্ষী মধু সুধন পাল শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৪ বছর পাঁচ মাস।
শনিবার (৩০ এপ্রিল) আখাউড়া রাধানগরের লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ বোরহান উদ্দিন শ্মশানে আসার সময় হিন্দু প্রথার মতো সঙ্গে করে একটি লাকড়ি নিয়ে আসেন। বিষয়টি অসাম্প্রদায়িক চেতনার আবহ হিসেবে উপস্থিত সবার মাঝে নাড়া দেয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেষ বোরহান উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন, ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক নেসার আহমেদ খলিফা, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল মমিন বাবুল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ, লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি হিরালাল সাহা, রাধামাধব আখড়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দীপক কুমার ঘোষ, ভোরের কাগজের প্রতিনিধি জুটন বনিক।

শতবর্ষী মধু সুধন পাল
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধু সুধন পাল দুই সপ্তাহ আগে রক্তচাপজনিত অসুস্থ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। দু’দফা চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে নিজ বাড়ি রাধানগরে আনা হয়। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চশমা ছাড়া পত্রিকা পড়তেন। ছেলেদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও বসতেন তিনি।
মধু সুধন পাল ছয় ছেলে সন্তান ও তিন কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। প্রায় ২৭ বছর আগে তার স্ত্রী সুভাষিনি পাল মারা যান। তিনি সাত প্রজন্ম দেখার ভাগিদার ছিলেন। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রে তার ছেলে ও মেয়েসহ অসংখ্য স্বজনের বসবাস। কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু তার নাতি।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন মধু সুধন পালের ছেলে তুলশী কান্ত পাল। এসময় রাধানগর গ্রামবাসী, সাংবাদিক সমাজ, পূজা উদযাপন পরিষদ, রাধামাধব আখড়া, লোকনাথ সেবাশ্রম, অরুণ সংঘ, কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মৃত অনিল বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

শেখ বোরহান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ১৯৫৮ সাল থেকে উনার পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। আমার চাচার ক্লাসমেট ছিলেন তিনি। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাকালীন তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার মতো শান্তিপ্রিয় মানুষ খুব বিরল। উনার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, আমার বাড়ির পাশেই উনার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই শান্তিপ্রিয় মানুষটিকে। উনি শতবছর তার পুরো পরিবারকে আগলে রেখেছেন।
প্রয়াত মধু সুধন পালের নাতী বিশ্বজিৎ পাল বাবু বলেন, আমার দাদা ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। উনার চলাফেরায় নমনীয়তা ছিল সবচেয়ে বড় গুণ।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ নকল দুধ তৈরির দায়ে কারখানা মালিকের এক বছর কারাদণ্ড
- ২ এলপিজি সংকটে সব গ্যাস স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক-সাধারণ মানুষ
- ৩ কোটিপতি ‘ব্যবসায়ী’ তাহেরীর স্ত্রীর নামে কিছুই নেই
- ৪ মোড়কজাত নিবন্ধন না থাকায় দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা
- ৫ ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে, লাইভ দেখা যাবে থানা থেকে’