ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সেতুর ওপর থেকে সরানো হলো সেই ঘরটি

জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোনা | প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ১০ মে ২০২২

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী হাওরাঞ্চলের চাকুয়া ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে সেতুর ওপর তৈরি ঘরটি অপসারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মে) বিকেলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার অভিযানে গেলে ঘরটি সরিয়ে নেন জলমহালের লোকজন।

ইউএনও জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দখলকারীরা ঘরটি ভেঙে নিয়ে পালিয়েছে। তাই অভিযুক্তদের ধরা সম্ভব হয়নি। দ্রুত দখলকরীদের আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছয় বছর আগে নির্মাণ করা সেতুতে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পর থেকে সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। এমনকি হেঁটেও পার হতে পারেনি কেউ। এ নিয়ে গত ২ মে ‘সেতুর ওপর ঘর নির্মাণ করে বসবাস ’ শিরোনামে জাগোনিউজ২৪.কম-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া বাজার থেকে ফরিদপুর হয়ে জগন্নাথপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার মাটির ডুবো সড়ক রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক দিয়ে শুকনো মৌসুমে প্রতিদিন লেপসিয়া, ফতুয়া, ফরিদপুর, রাশিদপুর, চাকুয়া, জগন্নাথপুরসহ আশপাশের অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ চলাচল করে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে সড়কের ফরিদপুর এলাকায় জলমহালসংলগ্ন খালের ওপর একটি উঁচু পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। হাবিব এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। কিন্তু সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে কাজে আসেনি। গত চার বছর ধরে সেতুর ওপর দুই তৃতীয়াংশ জুড়ে একটি টিনের ঘর তৈরি করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ফরিদপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া জলমহালের লোকজন ওই ঘরটি তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন।

ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস মিয়া, রইস উদ্দিন বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর থেকে মানুষ চলাচলের কাজে না আসলেও ঘর বেঁধে জলমহালের লোকজন বসবাস করে পাহারার কাজে ব্যবহার করতো। সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেতুটি কোনো কাজে আসছিল না। ঘরটি অপসারণ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ। একই সঙ্গে সংযোগ সড়ক ও মাটির সড়কটি উঁচুসহ পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সেতুটির ওপর প্রায় চার বছর ধরে জলমহালের লোকজন ঘর বেঁধে মাছ পাহারা দিচ্ছিল। সংযোগ সড়কের জন্য বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক হলে ওই রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন সহজেই চলাচল করতে পারবে। মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সিদ্দিক ও সদস্য মাঈন উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেতুটি বানানোর পর থেকে অকেজো হিসেবে পড়ে থাকায় আমরা কয়েক বছর আগে ঘর বানিয়ে পাহারার কাজে লাগাচ্ছিলাম। এখন প্রশাসনের নির্দেশে আমরা ঘর সরিয়ে নিয়েছি।’

এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজসহ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর নজরে এসেছে। ঘরটি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সেতুতে সংযোগসড়ক নির্মাণ করে এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধান করা হবে।

এইচ এম কামাল/এসজে/জিকেএস