ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী-সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২৯ মে ২০২২

যশোরের বাঘারপাড়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী ও সাক্ষীদের জীবননাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

রজব আলী বিশ্বাস হত্যা মামলার বাদী খলিলুর রহমান খোকন শুক্রবার (২৭ মে) বাঘারপাড়া থানায় জিডি করেন। পরদিন ২৮ মে ময়েনউদ্দিন ওরফে ময়না হত্যা মামলার সাক্ষী আফসার উদ্দিন ও আলাউদ্দিন আরও দুটি জিডি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের পার করে দেওয়ায় মাগুরার শালিখা থানার সীমাখালী বাজার ঘাটের মাঝি রজব আলী বিশ্বাসকে ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট আমজাদ হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা ধরে নিয়ে যান। পরে প্রেমচারা গ্রামের চিনারাশি আমবাগানে নিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে খলিলুর রহমান খোকন মাগুরার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শালিখা আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। তখন থেকেই আমজাদের পরিবারের সদস্য ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন সময় বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান খোকন বলেন, ‘গত ২২ মে সকালে প্রেমচারাতে আত্মীয় বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। এ সময় চাঁদপুর গ্রামের জনৈক রিজাউল মোল্যার বাড়ির সামনে আমজাদ রাজাকারের ভাড়াটে লোক তরিকুল আনোয়ার টুটুলের নেতৃত্বে তার ভাগ্নে জাহিদুল ইসলাম, ছেলে আনোয়ার হোসেন খোকন, ছোট ভাই মাসুম বিল্লাহসহ কয়েকজন আমাকে গালিগালাজ করেন। মামলা তুলে না নিলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন। পরে আমি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তখন সন্ত্রাসী দল পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি বাঘারপাড়া থানায় একটি জিডি করেছি।’

জিডিতে একই অভিযোগ করেছেন উত্তর চাঁদপুর গ্রামের ময়েনউদ্দিন ওরফে ময়না হত্যা মামলার সাক্ষী আফসার উদ্দিন ও আলাউদ্দিন। তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৩ ভাদ্র দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়নাকে তার বাড়ি থেকে আটক করে প্রেমচারা রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যান আসামি আমজাদ হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা। সেখানে তিনদিন আটক রেখে নির্যাতন করেন। পরে খুড়দা গ্রামের বিজয় দাশের দেবদারু বাগানে কুয়ার পাশে দাঁড় করিয়ে আমজাদ হোসেন মোল্লা গুলি করে হত্যা করেন ময়নাকে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী।’

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় ভাড়াটে মাস্তান টুটুলের নেতৃত্বে আমজাদ রাজাকারের ছেলে ও ভাগ্নে আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত ১৮ মে আমাদের বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমরা এ মামলায় সাক্ষী দিলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাঘারপাড়া থানায় জিডি করেছি।’

ময়না হত্যা মামলার সাক্ষী আফসার উদ্দিন বলেন, আমজাদ রাজাকারের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে যেয়ে বাঘারপাড়ায় তফসির মোল্যাকে জীবন দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন বলেন, আমজাদ রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

মিলন রহমান/এসআর/জিকেএস