দেওয়ালে পোস্টার লাগিয়ে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি
শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে লাগানো পোস্টার
নেত্রকোনার মদনে উপবৃত্তি ফরম ও ইউনিক আইডির জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার (৩০ মে) বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামানের অপসারণ দাবিতে এমন পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে ১৪ মে ঘটনা তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন জাকারিয়া চন্দন নামের এক অভিভাবক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে উপবৃত্তি ফরম ও ইউনিক আইডি বাবদ টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২২০ টাকা করে আদায় করছেন। অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা প্রধান শিক্ষক আদায় করায় ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকরা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান নিজের সুবিধার্থে দুপুর ১টার সময় বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন। স্থানীয় লোকজন মৌখিকভাবে বিষয়টি শিক্ষা অফিসে জানালে ঘটনার সত্যত্যা পেয়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘স্যার বলছে উপবৃত্তির ফরম ও ইউনিক আইডির জন্য ২২০ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে উপবৃত্তি দেওয়া হবে না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি। এখন আমরা জানতে পেরেছি টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। আমরা এখন টাকা ফেরত চাই।’
পোস্টার লাগিয়ে পদত্যাগ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পোস্টার লাগিয়ে প্রতিবাদ জানানোর বিষয়টি আমার চোখে পড়েনি। কেউ করে থাকলে বিষয়টি আমার নজরে আসেনি।’
উপবৃত্তি ফরম ও ইউনিক আইডির জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেকিম সুপারভাইজার জোসনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, উপবৃত্তি ফরম ও ইউনিক আইডির জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বালালী বাঘমারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে কিছু পোস্টার করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক।’
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, উপবৃত্তির ফরম ও ইউনিক আইডির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এইচ এম কামাল/এসজে/এএসএম