কুষ্টিয়ায় পৃথক হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
কুষ্টিয়ার মিরপুরে বন্ধুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে দৌলতপুরে শ্বাসরোধে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী হোসেন আলীরকে (৫৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৫ জুন) দুপুর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দৌলতপুরের নারায়ণপুর দহকোলা গ্রামের মৃত আকসের মোল্লার ছেলে ইন্তাদুল হক (২৫) ও একই গ্রামের জালু মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন (২৫)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দৌলতপুর উপজেলার নারায়ণপুর দহকোলা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ফিরোজের (২৫) বাড়িতে যায় আসামি ইন্তাদুল হক ও রুহুল আমিন। আসামিরা তাদের নম্বর প্লেট বিহীন মোটরসাইকেলে ফিরোজকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে একটি মাইক্রোতে করে ফিরোজের মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে একই তরুণীর সঙ্গে দ্বিমুখী প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিরোজকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।
এরপর আদালত এ মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ৫ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। রোববার বিচারক আসামিদের শাস্তির এ আদেশ দেন।
অপর মামলায় ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে দৌলতপুর উপজেলার দীঘলকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী তার স্ত্রী মরজিনা খাতুনকে (৩৭) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মারজেল মণ্ডল বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
আল মামুন সাগর/আরএইচ/জিকেএস