ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফসলি জমিতে প্রশাসনের বালু ভরাট, কৃষকের মামলা

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ০৭ জুন ২০২২

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারি আবাসনের ঘর নির্মাণের জন্য গণেশ চন্দ্র দে নামের এক কৃষকের ১ একর ২৩ শতাংশ ফসলি জমিতে বালু ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। ওই জমিতে এবার ১৩৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। জমি উদ্ধারে মামলা করেছেন ওই কৃষক।

এ বিষয়ে জবাব দিতে বিবাদীদের ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন আদালত। তারপরও বালু ভরাট বন্ধ হয়নি। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক গণেশ।

জমিটির রেকর্ড ও মালিকানা বুঝে পেতে গত ১ জুন লক্ষ্মীপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন গণেশ ও তার ভাই কার্তিক চন্দ্র দে। এতে সরকারের পক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), রামগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি), চন্ডীপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে (তহশীলদার) বিবাদী করা হয়।

বাদীর আইনজীবী প্রহলাদ সাহা রবি জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। বিবাদীদের ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই জমিতে বালু ভরাট করার এখতিয়ার নেই।

গণেশ রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডীপুর ইউনিয়নের চন্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক।

গণেশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে হরকুমার মজুমদারের কাছ থেকে গণেশের বাবা মাখন লাল দে ১ একর ২৩ শতাংশ জমি কেনেন। এরপর থেকে ওই জমি মাখনদের দখলে রয়েছে। ১৯৮৭ সালে মাখন মারা যান। ওই সময় গণেশ ও কার্তিক অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকায় জমিটি গত আরএস জরিপে রেকর্ড করতে পারেননি। পরে জমিটি সরকারের নামে রেকর্ড হয়। তবে কেনার পর থেকে জমিটি গণেশদের দখলে রয়েছে। চাষাবাদ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। এ বছর ওই জমিতে ১৩৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে।

jagonews24

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য ওই জমিটি বালু দিয়ে ভরাট করছে উপজেলা প্রশাসন। তখন গণেশ জানতে পারেন জমিটি সরকারের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। পরে রেকর্ড ও জমির মালিকানা বুঝে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।

গণেশ চন্দ্র দে জাগো নিউজকে বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রহস্যজনক কারণে বালু ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রশাসনের কার্যকরী হস্তক্ষেপ চাই।’

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইউএনও ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মীরার সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।

রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মামলার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি এসআর ও ভিপি সম্পত্তিভুক্ত। আদালতে এ ব্যাপারে জবাব দেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাজিয়া পারভিন বলেন, জমির বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ইউএনও দেখছেন। যদি আমার কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এসআর/এএসএম